সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে একটি প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। ভুক্তভোগীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে।
পুলিশ বলছে, সবাইকে এ ধরনের প্রতারকচক্রের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে এবং তাদের ফাঁদে পা না দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সতর্কতার সঙ্গে অ্যাপসগুলো ব্যবহার করলে এসব প্রতারক ফাঁদে ফেলতে পারবে না।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উন্নয়নকর্মী এম রিজওয়ান খানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এস আই সজীব নামে একজন ব্যক্তি উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে ফোন করেন। তিনি রিজওয়ান খানকে জানান আপনার হোয়াটস নম্বর ব্যবহার করে কেউ গ্রুপ খুলে পুলিশ সম্পর্কে বাজে ছবি ও মন্তব্য করছে। তাই পুলিশ বিষয়টি ট্রেস করবে। আপনাকে একটা কোড পাঠানো হবে, সেটা দিয়ে ফোনটা বন্ধ করতে হবে। তাদের কথা মতো কোড পাঠিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন রিজওয়ান।
এরমধ্যেই সুযোগ পেয়ে প্রতারকরা ভুক্তভোগীর হোয়াটস অ্যাপ নাম্বার ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের কাছে টাকা চাইতে শুরু করেন। ভুক্তভোগীর একজন বন্ধু মোফাক্কার মোর্শেদ খান চৌধুরী প্রতারকের ফাঁদে পা ফেলেন। প্রতারকদের দেওয়া নাম্বারে তিনি ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী এম রিজওয়ান খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমার ব্যবহৃত হোয়াটস অ্যাপ নম্বর হ্যাক করে প্রতারকরা অধিকাংশ নম্বরে ‘আমার জরুরী ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজন, সন্ধ্যায় দিতে পারব’ এমন ম্যাসেজ পাঠায়। আমি ১০ মিনিট পর আমার হোয়াটস অ্যাপের নিয়ন্ত্রণ পাই। এর মাঝেই দেখি আমার বন্ধু মোফাক্কার মোর্শেদ খান চৌধুরী প্রতারকের নাম্বারে ২৫ হাজার বিকাশ করে স্ক্রিন শট দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এতো স্মার্টলি পুলিশের পরিচয় দিয়ে কথা বলেছে, আমি ভাবতেও পারি নাই এরা ভুয়া।
এ ঘটনার পর প্রতারকের নাম্বারে টাকা পাঠানো ব্যক্তি মোফাক্কার মোর্শেদ খান চৌধুরী গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রতারণার অভিযোগ একটা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতারকচক্র বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে পুলিশ অফিসারদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে নানাভাবে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সবাইকে এ ধরনের প্রতারকচক্রের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে এবং তাদের ফাঁদে পা না দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।








