ফেনীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, বিভিন্ন সড়ক ও ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নামার পর যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেকগুলো সড়ক এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে কয়েকটি সড়কে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায় আনুমানিক ২০০ কোটি টাকার উপরে গ্রামীণ সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের জন্য ব্যবস্থা নিতে একটু সময় লাগবে।
ফেনীতে মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে তৃতীয় দফার বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের ও ফসলি জমি। ভেঙ্গে গেছে পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম মালিপাথর গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের চলাচলের একমাত্র ব্রিজটি।
এছাড়াও উপজেলার মালিপাথর, অলকা ও ফুলগাজী উপজেলার দেড়পাড়া, দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের চিত্র দেখা গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন।
দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে তৃতীয় দফার বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে আমাদের। যাদের ঘর ভেঙ্গে গেছে তাদেরকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ আল ফারুক বলেন, ফেনী জেলায় সাম্প্রতিক এই বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আমাদের পল্লী এলাকার অবকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭০০ কিলোমিটার রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমাদের কিছু ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এটা আরও বাড়তেও পারে। ক্ষতিগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা জরুরী ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি। মেজর ড্যামেজগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো।
ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, বন্যা পরবর্তী যে ক্ষয়ক্ষতিগুলো হয়েছে সেগুলো যাতে আমরা খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করতে পারি। মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাতে ফিরিয়ে দিতে পারি। সরকারে বরাদ্দের বাইরেও বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি সংস্থা কাজ করতে আসছে। তাদের সাথে সমন্বয় করে উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে যার যেটি প্রয়োজন সেইভাবে কাজ করছে।








