চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

টাইগারদের উইন্ডিজ বধ, যুবরাজের ছয় ছক্কা ও ধোনি-যুগের সূচনা

রিয়াজুল ইসলাম শুভ রিয়াজুল ইসলাম শুভ
১:৫৯ অপরাহ্ণ ১৪, অক্টোবর ২০২২
ক্রিকেট, স্পোর্টস
A A

প্রথম রাউন্ডের লড়াই দিয়ে কড়া নাড়তে থাকা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে রোববার। সাতটি বিশ্বকাপ পেরিয়ে এসেছে ২০ ওভারের ক্রিকেটের রোমাঞ্চকর যাত্রা। সাউথ আফ্রিকায় বসেছিল প্রথমটি। ঘটনাবহুল আর উত্তেজনায় ঠাঁসা প্রতিটি আসরের স্মৃতি তুলে আনছে চ্যানেল আই অনলাইন। এপর্বে থাকছে ২০০৭ মহাযজ্ঞের স্মৃতিগাঁথা।

উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রিস গেইলের বিস্ফোরক সেঞ্চুরি, ক্যারিবীয়দের হারিয়ে গ্রুপপর্ব পেরিয়ে বাংলাদেশের সুপার এইটে পা রাখা, প্রথম আসরটি হয়ে আছে বহু ইতিহাসের সাক্ষী। জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়, টাইব্রেকারের জন্য হওয়া বোল আউট পদ্ধতিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়, স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে যুবরাজ সিংয়ের ছয় ছক্কা, আরেকবার নিজেদের চোকার প্রমাণ করা স্বাগতিক সাউথ আফ্রিকার সেমির আগেই বিদায়, অনেককিছুই ছিল।

নাটকীয়তার শেষ দৃশ্যের দেখা মিলেছিল ফাইনালে, যে চিত্রনাট্য হরেক বাঁকে ঠাঁসা কোনো থ্রিলার কাহিনীকেও হার মানানোর মতো! এমনিতেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অন্যরকম শিহরণ, উত্তেজনার পারদ উঠে যায় ঊর্ধ্বগগনে। এই দুদল আবার সেই আসরে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া ভারত ট্রফি জয়ের আনন্দে ভেসেছে। স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ঠাণ্ডা মাথায় নেতৃত্ব দেয়া ক্যাপ্টেন কুল মহেন্দ্র সিং ধোনি যুগের সূচনার সাক্ষীও ছিল সেই আসর।

Banglabid

ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল ভারত। সমর্থকরা টিম ইন্ডিয়ার পারফরম্যান্সে ফুঁসে উঠেছিল। পোড়ানো হয়েছিল খেলোয়াড়দের কুশপুত্তলিকা। কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বাড়িতেও ছুঁড়েছিল ঢিল। যে ক্রিকেটাররা ভারতবাসীর কাছে দেবতুল্য, তারাই আকস্মিকভাবে হয়ে উঠেছিলেন সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু!

সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য টি-২০ বিশ্বকাপের দলে ছিল বড় পরিবর্তন। শচীন, সৌরভ, শেবাগ, দ্রাবিড়ের মতো অভিজ্ঞদের ছুঁড়ে তারুণ্য নির্ভর দল গড়া হয়। ধোনির উপর ভরসা রেখে দেয়া হয় অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। গ্রেগ চ্যাপেলকে অপসারণের পর দুজন অন্তর্বর্তী কোচের হাত ঘুরে স্থায়ী কোচ নিয়োগ পান লালচাঁদ রাজপুত। বাকিটা ইতিহাস। প্রথম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েই একশ কোটি জনসংখ্যার দেশটি প্রাণ ফেরায় ক্রিকেটে।

টি-টুয়েন্টি শুরুর ইতিহাস ও বিশ্বকাপ আয়োজন
ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১৩ জুন ইতিহাসের প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছিল। ২০০৪ সালের ৫ আগস্ট হয় প্রথম ২০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচটি। মেয়েদের সেই খেলায় ইংল্যান্ডকে ৯ রানে হারায় নিউজিল্যান্ড। ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, অকল্যান্ডে প্রথম ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি হয়। নিউজিল্যান্ডকে ৪৪ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেট খেলুড়ে প্রতিটি দেশই পরে ছোট ফরম্যাটের ম্যাচ খেলতে শুরু করে। দ্রুত বাড়তে থাকে জনপ্রিয়তা। দর্শকদের কাছে ক্রিকেটের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক-বাণিজ্যিক লাভ বিবেচনায় এই ফরম্যাটে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে ফেলে আইসিসি।

Reneta

বিশ্বকাপের আদ্যোপান্ত
২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সফল আয়োজক সাউথ আফ্রিকা। ২০১০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের প্রস্তুতির মাঝেই তারা ইতিহাসের প্রথম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়। কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করে, আয়োজন করে স্মরণীয় আর সফল এক আসরের।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষ দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ রাঙিয়েছিলেন ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইল। প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে খাতা খুলেছিলেন। বাঁহাতি ব্যাটার সেই ইনিংসে ৭ চার ও ১০ ছক্কায় ৫৭ বলে ১১৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। উইন্ডিজের বাকিদের কেউ উল্লেখ করার মতো রান আনতে পারেনি, তবুও ৬ উইকেটে ২০৫ রান এসে যায়। জবাবে স্বাগতিকরা ১৬ বল হাতে রেখে সহজে তাড়া করে সেটি। হার্শেল গিবস দুর্দান্ত ছিলেন, তার আগ্রাসী অপরাজিত ৯০ জয় আনে।

কেপটাউনে আসরের চতুর্থ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমকে দেয় জিম্বাবুয়ে। অজিরা ৯ উইকেটে ১৩৮ তুলেছিল। জবাবে ওপেনিংয়ে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলরের ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস, এক বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তোলে জিম্বাবুয়ে।

পরেরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর, চমক বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। গেইল তো বটেই, ডেভন স্মিথ, মারলন স্যামুয়েলস, রামনরেশ সারওয়ান, ডোয়াইন ব্রাভো, শিবনারায়ণ চন্দরপল সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপের লাগাম টেনে ধরেন টাইগার বোলাররা। পেসার সৈয়দ রাসেল প্রথম ওভারেই রানের খাতা না খোলা ব্যাটিং দানব গেইলকে সাজঘরে ফেরান। ৪ ওভারে এক মেডেনে মাত্র ১০ রান দিয়ে রাসেল নেন গেইলের উইকেট।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান সেদিন বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন। ৩৪ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ২৫ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। ১৪ বলে ২৭ রান করে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই স্যামুয়েলসকে থামান অধিনায়ক আশরাফুল।

২৮ রানের ভেতর দুই ওপেনার নাজিমউদ্দিন ও তামিম ইকবালকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। যা পরে উড়িয়ে দেন ঝলসে ওঠা আশরাফুল। তাকে সঙ্গ দেন সাবলীল ব্যাটিং করা আফতাব আহমেদ। চোখের পলকে ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেন আশরাফুল। তখন সেটি ছিল সবচেয়ে কম বলে টি-টুয়েন্টি ফিফটির নজির।

তৃতীয় উইকেটে আফতাবের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি, ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন লাল-সবুজদের অধিনায়ক। ২৭ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে ফেরেন। সাকিব ১৩ রানে থামেন। অলোক কাপালিকে নিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেন ৪৯ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত আফতাব। তাতে গ্রুপপর্ব থেকে ক্যারিবীয়দের বিদায়ঘণ্টা বাজে, সুপার এইটের টিকিট কাটে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠেই নামতে পারেনি ভারত। বৃষ্টির কারণে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে তারা পয়েন্ট ভাগাভাগি করে। কেনিয়াকে ১৭২ রানে হারিয়ে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কা। প্রায় ১২ বছর রেকর্ডটি অক্ষত ছিল। শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেটে ২৬০ রানের জবাবে কেনিয়া ৮৮ রানে অলআউট হয়।

তখনও চালু হয়নি ম্যাচ টাই হলে সুপার ওভারের নিয়ম। ছিল বোল আউট নামক অদ্ভুত এক পদ্ধতি। যেহেতু টি-টুয়েন্টি ম্যাচে টাইয়ের নিয়ম নেই, ফলাফল নির্ধারণে তখন বোল আউটের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। বোলিং করে বোলারদের স্টাম্পে বল লাগাতে হতো। লাগাতে পারলে এক পয়েন্ট যোগ হতো। নিয়মটি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উন্মাদনায় যা নতুন মাত্রা পেয়েছিল।

গ্রুপপর্বে ভারত-পাকিস্তান একই গ্রুপে ছিল। আগে ব্যাট করে টিম ইন্ডিয়া রবিন উথাপ্পার ৫০ রানে ৯ উইকেটে ১৪১ তোলে। জয়ের দ্বারপ্রান্তে যাওয়া পাকিস্তানের একসময় দরকার ছিল ২ বলে ১ রান। শ্রীশান্তের করা শেষ ওভারের পঞ্চম বলে রান নিতে ব্যর্থ হন মিজবাহ-উল হক, সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ১ রান। শেষ বলে ৫৩ রান করা মিজবাহ রানআউট হন, খেলা গড়ায় বোল আউটে।

ভারতের হয়ে বীরেন্দ্র শেবাগ, হরভজন সিং ও রবীন উথাপ্পা স্টাম্পে বল লাগাতে পারেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে ইয়াসির আরাফাত, উমর গুল এবং শহীদ আফ্রিদির ডেলিভারি স্টাম্প মিস করায় ম্যান ইন ব্লু ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র বোল আউট জয়টি তুলেছিল। মূলত এখানেই প্রথমবার দেখা মেলে ধোনির বুদ্ধিমত্তার। তিনি বোল আউটের জন্য পাঁচজনের মধ্যে চারজন রেখেছিলেন স্পিনার। পাকিস্তান অধিনায়ক শোয়েব মালিক করেছিলেন উল্টোটা। তার বাছাই পাঁচ বোলারের চারজনই ছিল পেসার। কৌশলগত পার্থক্যে সফল হন ধোনি, মাস্টারমাইন্ড প্রশংসা কুড়ান।

গ্রুপের বাধা পেরিয়ে দু-গ্রুপে ভাগ হয়ে সুপার এইটে পা রাখে দলগুলো। বাংলাদেশের গ্রুপে ছিল অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। আরেক গ্রুপে ভারত, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। কোনো ম্যাচে জয় না পাওয়া বাংলাদেশ সেমির আগে বিদায় নেয়। শেষ আটে ওঠার সফলতা নিয়ে দেশে ফেরে।

টাইগারদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে প্রথম হ্যাটট্রিকের নজির গড়েন অজি পেসার ব্রেট লি। তিনি প্রথমে সাকিব আল হাসান, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে সাজঘরে ফেরান। হ্যাটট্রিক বলে অলোক কাপালিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে গড়েন ইতিহাস।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যুবরাজ সিং হয়ে উঠেছিলেন দানব। অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সঙ্গে উত্তপ্ত কথোপকথনের ঘটনা তাকে তাঁতিয়ে তুলেছিল। ডারবানে থ্রি লায়ন্সরা পড়ে বাঁহাতি তারকার তোপে, একেবারে ভূপাতিত হতে হয়।

আগে ব্যাট করে ভারত। ইনিংসের ১৯তম ওভারে বল হাতে নেন পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। সেই ওভারের সব বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ব্রডের নাকের-চোখের জল এক করে ছাড়েন যুবরাজ। ১২ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে ভেঙে দেন আশরাফুলের বিশ্বরেকর্ড। ১৫ বছর টি-টুয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির সেই রেকর্ডটি কারো পক্ষে ভাঙা সম্ভব হয়নি। যুবরাজ ১৬ বলে ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৫৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। ভারত পায় ৪ উইকেটে ২১৮ রানের বিশাল পুঁজি। ইংল্যান্ড পাল্লা দেয়ার চেষ্টা করলেও ৬ উইকেটে ২০০ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ১২ রানে জেতে ভারত।

ইংলিশদের হারালেও সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছিল ভারত। সেমিতে যেতে শেষ ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাকে তাদের হারাতেই হতো। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা। ১১তম ওভারে যখন চতুর্থ উইকেট হারায়, স্কোরবোর্ডে সবে ৬১। রোহিত শর্মার অপরাজিত ৫০ ও ধোনির ৪৫ রানে ভারত ৫ উইকেটে ১৫৩ রানে পৌঁছায়।

ভারতকে শুধু ম্যাচটি জিতলেই হতো না, মাথায় রাখতে হচ্ছিল রানরেটের হিসাব। বড় ব্যবধানে জয়ের বিকল্প ছিল না। প্রোটিয়াদের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের সামনে বড় পরীক্ষা ছিল। কিন্তু পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। গিবস, গ্রায়েম স্মিথ, এবি ডি ভিলিয়ার্স, জাস্টিন কেম্প ও শন পোলকদের জায়গা তখন ড্রেসিংরুমে। ষষ্ঠ উইকেটে মার্ক বাউচার ও অ্যালবি মরকেল ৬৯ রানের জুটি গড়েন, রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন যদিও।

সাউথ আফ্রিকা ম্যাচ হেরে গেলেও ১২৬ রান করতে পারলেই নিউজিল্যান্ডকে হটিয়ে সেমিতে জায়গা পেতো। বাউচার ও মরকেলের জুটি অন্তত সেই আশার পালে হাওয়া লাগিয়েছিল। সেজন্য শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল ২৫। এমন মুহূর্তে আবারও নিজেদের চোকার তকমার মঞ্চায়ন করে সাউথ আফ্রিকা। ৯ উইকেটে ১১৬ রানে থেমে যায়। ১০ রান কম করায় আসর থেকে ছিটকে যায়। রুদ্র প্রতাপ সিং ১৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।

প্রথম সেমিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয়ে ফাইনালে যায় পাকিস্তান। উত্তেজনা ছড়ানো দ্বিতীয় সেমিতে মুখোমুখি ভারত-অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে ধ্বংসাত্মক যুবরাজ, খেলেন ৩০ বলে ৭০ রানের ইনিংস। শেষদিকে ধোনির ১৮ বলে ৩৬ রানের ক্যামিও, টিম ইন্ডিয়া ৫ উইকেটে ১৮৮ রানে পৌঁছায়। ম্যাথু হেইডেনের ৬২ ও গত মে মাসে প্রয়াত অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের ৪২ রানে অজিদের সম্ভাবনা জাগে। যদিও ৭ উইকেটে ১৭৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি তারা। ১৫ রানে জিতে ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হয় ভারত।

প্রথম ফাইনালটি ছিল না হাই-স্কোরিং, ছিল শুধু রোমাঞ্চ। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাঝারি পুঁজি পায় ভারত। আগে ব্যাট করে গৌতম গম্ভীরের ৭৫ ও রোহিতের ১৬ বলে ৩০ রানে ৫ উইকেটে ১৫৭ তোলে।

পাওয়ার প্লেতে পাকিস্তান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। দ্রুত ৫৩ রান জমালেও হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। এক পর্যায়ে ভারতের বোলারদের দাপটে ৬ উইকেটে ৭৭ হয়ে যায়। সপ্তম ব্যাটার ইয়াসির আরাফাত আউট হওয়ার সময় জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৪ বলে ৫৪ রান।

ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মাঝে একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন মিজবাহ-উল হক। শ্রীশান্তের বলে বোল্ডের আগে দুই ছক্কায় ৪ বলে ১২ রান করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন সোহেল তানভীর। ১৪১ রানে নবম উইকেট হারায় পাকিস্তান। মেজবাহ ক্রিজে ছিলেন তখনও, স্বস্তিও ছিল।

শেষ ৬ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৩ রান। যোগিন্দর শর্মা শুরুতেই দেন ওয়াইড, পরের বলটি হয় ডট। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে উত্তেজনা চূড়ায় নেন মিজবাহ। সমীকরণ তখন ৪ বলে ৬ রান। তৃতীয় বলটি ছিল ফুল লেন্থে, শর্ট ফাইন লেগের উপর দিয়ে পাগলাটে স্কুপ শট হাঁকান ৪৩ করা মিজবাহ। অতি ঝুঁকিপূর্ণ শটে বল হয়নি সীমানা পার। শ্রীশান্তের হাতে বল জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৫ রানের নাটকীয় জয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ভারত।

এক নজরে ২০০৭ বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: ভারত, রানার্সআপ: পাকিস্তান। সেরা খেলোয়াড়: শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক: ম্যাথু হেইডেন (২৬৫ রান, অস্ট্রেলিয়া), সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি: উমর গুল (১৩টি, পাকিস্তান), সর্বোচ্চ ডিসমিসাল: অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (৯টি, অস্ট্রেলিয়া), সর্বোচ্চ ক্যাচ: এবি ডি ভিলিয়ার্স (৬টি, সাউথ আফ্রিকা), সর্বোচ্চ জুটি: ক্রিস গেইল-ডেভন স্মিথ (১৪৫ রান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: আইসিসিএডিটর্স পিকএডিটর্স পিক-টি২০টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০০৭ফিরে দেখা
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

বাংলাদেশ সরকারের লোগো, জাতীয় দিবসের বাতিলের খবরের সাথে সম্পর্কিত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

নতুন দায়িত্বে ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

আগস্ট ৮, ২০২৬

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফার অর্থ প্রেমিকাকে দেয়ার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়

আগস্ট ৮, ২০২৬

ফাইনালে আলো ছড়াতে পারলেন না সাকিব-হৃদয়

আগস্ট ৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এআই কেন্দ্র হতে চায় বেইজিংয়ের ‘ই-টাউন’

আগস্ট ৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সালাহউদ্দিনকে গুম, শেখ হাসিনা ছাড়াও কারা আসামী হবেন

আগস্ট ৮, ২০২৬
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT