দক্ষিণ কোরিয়ায় এক নারী তেলাপোকা মারতে গিয়ে নিজ বাসায় আগুন লাগিয়ে ফেলেন। তার ওই আগুনে পুরো অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি পুড়ে যায় এবং এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী ঘরে থাকা তেলাপোকা মারতে লাইটার ও দাহ্য স্প্রে ব্যবহার করেন। সেই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, এর আগে তিনি একইভাবে তেলাপোকা মারার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সোমবার (২০ অক্টোবর) তিনি আগুন জ্বালানোর পর তার ঘরের জিনিসপত্রে আগুন ধরে যায়।
পুলিশ বলেছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ওসানে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে অগ্নিকাণ্ডে অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
আগুন নেভানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই তেলাপোকা বা ঘরের পোকা দমন করতে ঘরে তৈরি ফ্লেমথ্রোয়ার বা স্প্রে-লাইটার ব্যবহার করছেন। ২০১৮ সালে এক অস্ট্রেলীয় পুরুষও একইভাবে তেলাপোকা মারতে গিয়ে নিজের রান্নাঘরে আগুন লাগিয়ে ফেলেছিলেন।
ওসান শহরের এই ঘটনায় নিহত নারী ছিলেন ৩০ বছর বয়সি এক চীনের নাগরিক। তিনি স্বামী ও দুই মাস বয়সী সন্তান নিয়ে ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতেন।
আগুন লাগার পর তারা জানালা খুলে সাহায্য চান। প্রথমে প্রতিবেশী ভবনের বাসিন্দাদের কাছে জানালা দিয়ে শিশু সন্তানটিকে দেন। পরে নিজেরা বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
নারীর স্বামী পাশের ভবনে উঠতে সক্ষম হলেও স্ত্রী নিচে পড়ে যান। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ধারণা, ঘন ধোঁয়ায় সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা জানালা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
ভবনটির নিচতলায় বাণিজ্যিক দোকান এবং দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ৩২টি আবাসিক ফ্ল্যাট ছিল। আগুনে আরও ৮ জন বাসিন্দা ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন।







