জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, কয়েকজনকে পদাবনতি ও বেতন অবনমন, দুজনকে সতর্কীকরণ এবং আটজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান সিন্ডিকেটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত ও স্ট্রাকচার্ড কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পর সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ রঙ্গনের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে প্রভাষক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করে নিম্নতর বেতনস্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, অধ্যাপক বশির আহমেদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদার এবং সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বিরুদ্ধে বেতন অবনমনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে সতর্কীকরণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইবিএর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দুই কর্মকর্তার মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই বছর পর পুনরায় পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উপাচার্য আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। তাদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা পৃথকভাবে তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।







