ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই ইউরোপের সাথে নর্থ ও লাতিন আমেরিকা মহাদেশের আধিপত্যের যুদ্ধ। বিশ্বকাপের ট্রফি জয় কিংবা বিশ্বকাপ আয়োজন, দুই বিষয়েই চলছে ৯৬ বছরের ঐতিহ্যের লড়াই। এপর্যন্ত ১১ বার ইউরোপে বসেছে বিশ্বকাপের আসর। আর ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের প্রথম আসরসহ লাতিন আমেরিকা ৫ এবং নর্থ আমেরিকা ৪ বার আয়োজন করেছে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ।
গত ২২ আসরে ১২ বার বিশ্বকাপ ট্রফি গেছে ইউরোপে। ব্রাজিলের ৫ ও আর্জেন্টিনার তিনসহ অ-ইউরোপীয় দেশের বিশ্বকাপ জয় ১০ বার।

দুই ক্ষেত্রে আমেরিকাকে পেছনে ফেললেও মেক্সিকোর বিশ্বকাপ আসর মানেই লাতিনদের জয়জয়কার। এককভাবে সর্বাধিক ৩ বার আয়োজক হওয়ার রেকর্ড গড়তে চলেছে নর্থ আমেরিকার দেশ মেক্সিকো। দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজক মানেই লাতিনদের বর্ণালী সাফল্য। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়াম দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী হিসেবে হয়ে গেছে ইতিহাসের ধারক। ১৯৭০ সালে ফুটবল সম্রাট পেলে ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্বকাপ মেক্সিকোর স্তাদিও আজতেকাতেই জিতেছিলেন।
১৬ বছর পর মেক্সিকো দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজন অবিস্মরণীয় হয়ে আছে ফুটবল জাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবে।

এবার মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ফাইনালে না হলেও উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু এটি। মোট ১৩টি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া দেশটি আয়োজন করবে তিনটি নকআউট রাউন্ডের ম্যাচ। এরমধ্যে শেষ বত্রিশের দুই এবং শেষ ষোলোর একটি ম্যাচের আয়োজক আজতেকা সভ্যতার ধারক দেশটি।

নকআউট রাউন্ডের তিনটি ম্যাচের যেকোনোটি হতে পারে দুই লাতিন ফেভারিট ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার ভেন্যু। হয়তো সেভাবেই মেক্সিকো আবারও হতে পারে লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ জয় অভিযানের সাক্ষী। পেলে, ম্যারাডোনার পর মেসি, নেইমার বা অন্যকোন লাতিন ফুটবল রাজপুত্রের উত্থানের প্রত্যক্ষদর্শী।



