ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের প্রতি ‘এক্স (X)’ অর্থাৎ বর্ণবাদবিরোধী সাইন ব্যাবহার করে আলোচনায় এসেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
ম্যাচে শুরুতে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসর। তবে পরে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও যোগ করা সময়ে এনজো ফের্নান্দেজের গোলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
দুই হাত দিয়ে তৈরি করা এই ‘এক্স’ চিহ্নটি কোন সাধারণ প্রতিবাদ নয়। ২০২৪ সালে ফিফা ‘নো রেসিজম’ বা বর্ণবাদবিরোধী এই বিশেষ ভঙ্গিটি চালু করে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়, রেফারি বা দলের কর্মকর্তারা সরাসরি বর্ণবাদী আচরণের বিষয়ে সংকেত দেয়ার সুযোগ পান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমন সংকেত পাওয়ার পর রেফারি খেলা থামিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। বর্ণবাদী আচরণ চলতে থাকলে খেলা স্থগিত বা পুরোপুরি বাতিল করারও বিধান রয়েছে।
হাসানের এই ভঙ্গিটি এমন এক সময়ে আসে যখন মিশরীয় শিবির রেফারির ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল। তবে ওই সংকেতের পর নিয়ম অনুযায়ী খেলা থামানো হয়নি।
মিসরের অভিযোগ, মেসির সমতাসূচক গোলের আগে ফাউল হলেও সেটি আমলে নেননি রেফারি। অথচ একই ধরনের ফাউলের কারণে তাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছিল। ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে লেতেক্সিয়ের মিসরের এক কোচিং স্টাফকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপরই রেফারির দিকে ‘এক্স’ ইশারা করেন কোচা হাসান।
এই ‘এক্স’ ইশারা সাধারণত বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ জানাতে ব্যবহৃত হলেও, হাসান ঠিক কী উদ্দেশ্যে এটি করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। ২০১০ সালে ইন্টার মিলানের কোচ থাকাকালে জোসে মরিনহোও একই ধরনের ইশারা করেছিলেন, যা ‘হাতকড়া’ বোঝানোর মাধ্যমে ম্যাচ কর্মকর্তাকে অপমান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। সে ঘটনায় তাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
হাসানের ইশারার পর মিশরের এক বদলি খেলোয়াড় এবং সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান তাকে শান্ত করেন। পরে রেফারি লেতেক্সিয়ের দুই কোচের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও অতিরিক্ত কোন শাস্তি দেয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে ন্যায়বিচার কোথায়? আজ আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়েরের নিয়োগের বিরোধিতা করেছিল মিশর এবং এই ঘটনার পর তিনি বিশ্বকাপের আর কোন ম্যাচ দেখবেন না।







