২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাটানি ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। শনিবার ইরান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের জাতীয় দল আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আয়োজক দেশগুলোর সাম্প্রতিক আচরণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার কাছে বেশকিছু শর্ত দিয়েছে তেহরান।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘আমরা অবশ্যই ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করব। তবে আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত না হয়েই আমরা এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে চাই।’
ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মাহদি তাজ রাষ্ট্রায়ত্ব টিভিকে জানান, বিশ্বকাপে অংশ নিতে ১০টি শর্ত দিয়েছেন তারা। দেশটির প্রতি সদাচরণের আশ্বাস চেয়েছেন তিনি। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে টুর্নামেন্ট চলাকালে ভিসা প্রদান, জাতীয় দলের স্টাফ, দলের পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান এবং বিমানবন্দর, হোটেল ও স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার সময় রাস্তায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের ফুটবলারদের এই টুর্নামেন্টে স্বাগত জানানো হবে। তবে তিনি একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন আইআরজিসি-র সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ইরানিয়ান প্রতিনিধিদলের সদস্যদের কোনভাবে ঢুকতে দেয়া হবে না।
এ প্রসঙ্গে ইরানিয়ান ফুটবল প্রধান বললেন, ‘সব খেলোয়াড় ও টেকনিক্যাল স্টাফ, বিশেষ করে যারা আইআরজিসিতে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছে, যেমন মেহদি তারেমি ও এহসান হাজসাফি। তাদের সবাইকে কোন ঝামেলা ছাড়াই ভিসা প্রদান করতে হবে।’
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যৌথভাবে আয়োজন করতে চলেছে ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপ। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান খেলবে গ্রুপ ‘জি’তে। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিসর। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।







