‘শুক্রবার সাতসকালে ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এশিয়ার অন্যতম ফুটবল শক্তি সাউথ কোরিয়া যে বিজয় অর্জন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও প্রেরণাদায়ক। এ এক দুর্দান্ত রঙিন সূচনা। প্রথমার্ধেই চেক প্রজাতন্ত্র গোল করে এগিয়ে গেলেও সাউথ কোরিয়ায় কাছ থেকে প্রতিউত্তর পেতে কিন্তু সময় লাগেনি। ৬৭ মিনিটে মিডফিল্ডার হোয়াং ইন বম সমতা আনার পর ৮০তম মিনিটে জয়সূচক দ্বিতীয় গোল করেন ওহ হিউয়েন গিউয়ে। সাউথ কোরিয়া দেখিয়ে দিয়েছে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি ম্যাচ কীভাবে বের করে আনতে হয়। চেকদের বিপক্ষে সাউথ কোরিয়ার এই বিজয় এশিয়াবাসীকে আনন্দে সিক্ত করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও ভীষণ খুশি হয়েছি। কোরিয়ানদের বিপক্ষে আমার নিজের অনেকগুলো ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে আজকের এই বিজয়ের মধ্যে দিয়ে কোরিয়ার দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেকটাই সুগম হলো।’
সকালে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে সাউথ কোরিয়ার ২-১ গোলে অভূতপূর্ব বিজয়কে এভাবেই চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে ব্যাখ্যা করেন সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু। তার মতে, ফুটবল প্রিয় কোরিয়ানরা বরাবরই মনপ্রাণ উজাড় করে খেলতে ভালোবাসেন। বেশ কয়েকবার তারা বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো সেরা আসরে খেলছে। ২০০২ সালে একবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। সমসাময়িক কালে খুব ভালো উচ্চতায় যেতে পারেনি। গত কাতার বিশ্বকাপে এই দলটি দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল। ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।
আজকের ম্যাচে যিনি সাউথ কোরিয়ার স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছেন সেই স্ট্রাইকার ওহ হিউয়েন গিউয়ে’র নাকি আজ খেলাটাই ছিল অনিশ্চিত। কেননা তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। ৩৮ ডিগ্রি জ্বর নিয়েই তিনি মাঠে নামেন এবং নিজ দেশকে বর্ণিল এক জয় উপহার দেন। তবে আজকের জয়ে অন্যতম নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন সাউথ কোরিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কিউ সিউং গুয়ে। কেননা ৩৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক একাধিকবার দুর্দান্ত সব সেভ করেছেন। এটি তার চতুর্থ বিশ্বকাপ। সাউথ কোরিয়ার আস্থার প্রতীক। আজকের ম্যাচেও তিনি আস্থা রেখেছেন। আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নুর মতে, গোলরক্ষক কয়েকটি অসাধারণ সেভ করেছেন। তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। দ্বিতীয়ার্ধে শেষদিকে চেক প্রজাতন্ত্র সমতা আনার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্ত গোলরক্ষক কিম ডানপাশে ঝাঁপ দিয়ে বল আটিকে দেন।
সাউথ কোরিয়া আগামী ১৯ জুন মেক্সিকো এবং ২৫ জুন সাউথ আফিকার মোকাবিলা করবে। সাবেক ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু মনে করেন, সাউথ কোরিয়ার দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথ অনেকটাই এখন প্রশস্ত। মেক্সিকোর সাথে ড্র করতে পারলেই সেটা হবে বড় এক পাওয়া। ঘরের মাঠে মেক্সিকোকে রুখে দিতেই কোরিয়ান কোচ নিশ্চিত কৌশল ঠিক করবেন। আর পরের ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাকে হারানোর জন্য তারা জীবনের শেষটুকু দিয়ে খেলবে। সাউথ আফ্রিকা প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। সবমিলিয়ে সাউথ কোরিয়ান জন্য একটি সুন্দর সময় তৈরি হয়েছে।
আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ ট্রফির লড়াই বরাবরই ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এশিয়ানরা এখনও ধারের কাছে যেতে পারেনি। তবে এবারের বিশ্বকাপেও সাউথ কোরিয়া ও জাপান বেশ চমক দেখাবে বলে বিশ্বাস করি। সবারই মনে থাকার কথা। গত বিশ্বকাপে জাপান কিন্তু স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল। এবারও তারা চমক দেখাবে বলেই বিশ্বাস। সাউথ কোরিয়ার জয় জাপানের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। জাপান এবার গ্রুপ ‘এফ’তে। ১৫ জুন প্রথম ম্যাচ খেলবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে জাপানও সাউথ কোরিয়ার পুনরাবৃত্তি করলে খুশি হব। এশিয়ার এই দুটি দেশ এবার বেশ এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’







