চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে রাউন্ড অব বত্রিশে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটে ইতিহাস গড়েছে প্যারাগুয়ে। যে জয়ের বড় নায়ক লাতিন দেশটির গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। সাফল্যের পর জানা যাচ্ছে গিলের এপর্যন্ত আসার গল্পটা বেশ কষ্টের এবং অভাবের।
সোমবার দিবাগত রাতে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ে ১-১ গোলে ড্র করে টাইব্রেকারে যায়। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে শুটআউট জেতে। কাই হাভার্টজ এবং নিক ভলতেমের শট সেভ করেন অরল্যান্ডো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেশের দ্বিতীয় নকআউট জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির ২৬ বর্ষী গোলরক্ষক।
কিছু মাস আগেও তার জীবনের চলার পথ ছিল বেশ কঠিন। ২০২১ সালে মেলিসা অ্যাভালোসকে বিয়ে করেন, ২০২২ সালে স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হন। সেবছর ডিসেম্বরে গিল-মেলিসা দম্পত্তির প্রথম সন্তান প্রত্যাশিত ছিল, স্বাস্থ্য সমস্যায় মেলিসাকে ৩০ নভেম্বর আগেভাগে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল এবং ৭ ডিসেম্বর তাদের সন্তান জন্ম নেয়। গুরুতর শারীরিক জটিলতা নিয়ে নির্ধারিত দিনের একদিন পর শিশু লৌতারো পৃথিবীতে আসে, এবং মেলিসাকে জরুরী অস্ত্রোপচার এবং ছেলকে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে।
তবে অরল্যান্ডো এরচেয়েও জটিল পরিস্থিতিতে পড়েন এরপর থেকেই। সেসময় পরিবারটি বড় দিন উপলক্ষে বাড়ি এলে উদযাপনের জন্য তাদের কাছে কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। একে একে অরল্যান্ডো সবকিছু বিক্রি করতে শুরু করেন সংসার খরচ মেটাতে। ক্লাব থেকে পাওয়া সরঞ্জামও বিক্রি করেন।
সেসময় অরল্যান্ডোর স্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ছেলে তার জীবনের জন্য লড়াই করেছে। তার বাবা সবসময় সেখানে ছিলেন। তিনি সবকিছু দিয়েছেন, তিনি সবকিছু বিক্রি করেছেন। তার জামাকাপড়, তার স্নিকার্স, এমনকি তার একমাত্র স্মৃতি অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সিটিও।’
ছেলের জন্মের প্রায় একবছর পর, গিল প্যারাগুয়ের মূল দলে দুটি ম্যাচ খেলেন। এরপর জীবন বদলে যাওয়ার মতো সুযোগ আসে। ডাক পান বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। প্রথমে আর্জেন্টিনার শীর্ষ সারির দল সান লরেঞ্জোয় ধারে চুক্তিবদ্ধ হন অরল্যান্ডো। ২০২৪ সাল শেষে রিজার্ভ দলে খেলে, ২০২৫ সালে মূল দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। সেসময় প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারোর নজরে পড়েন। এরপরের ইতিহাস সবারই জানা, নকআউটে জার্মানির বিপক্ষে ১২০ মিনিটে ৬টি সেভ এবং টাইব্রেকারে ২টি সেভ, বনে যান প্যারাগুয়ের অমর স্মৃতিময় জয়ের নায়ক।

