প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস ছিল একসময় পাওয়ার হাউজ ফুটবল খেলা জার্মানি। উনবিংশ শতাব্দী থেকে টানা রাজত্ব করে আসা জার্মানরা সর্বশেষ ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এরপর থেকে ছন্নছাড়া দলটি, একযুগ নেই সাফল্য। এমনকি ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে নিয়েছিল গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়। আসন্ন বিশ্বকাপের ১০ দিন আগে ফিনল্যান্ডকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চিরচেনা রূপে ফেরার জানান দিল জার্মানরা।
চলতি সপ্তাহে বিশ্বকাপের জন্য নর্থ আমেরিকায় উড়াল দেবে জার্মানি। রোববার রাতে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা ফিনল্যান্ডকে পরাস্ত করেছে। ডেনিজ উন্ডাভের জোড়া গোল এবং ফ্লোরিয়ান রির্টজ ও জামাল মুসিয়ালার গোলে বড় জয় পায়। ম্যাচে শারীরিক সংঘর্ষ খুব কমই ছিল এবং জার্মানি তুলনামূলকভাবে অক্ষত অবস্থায় মাঠ ছেড়েছে।
জার্মানি সাধারণত আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত। ম্যাচের শুরু থেকেই সে ধারা ধরে রেখেছিল। প্রথমার্ধে রির্টজ বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেন, একের পর এক আক্রমণ করেন। ২২ বর্ষী লেনার্ট কার্ল বেশ ভালোভাবেই রির্টজকে সঙ্গে দিয়েছেন। তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছিল ফিনল্যান্ডের রক্ষণভাগ।
মাঝ মাঠে থেকে জার্মানদের রক্ষণকে বেশ ভালোভাবে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন জামাল মুসিয়ালা, কয়টা সফল ড্রিবলও করেছেন। সেখানে ছিলেন ফেলিক্স নেমেচা এবং আলেকজান্ডার পাভলোভিচ। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে জশুয়া কিমিচের অ্যাসিস্টে জার্মানদের লিড এনে দেন উন্ডাভ। ৪৮ মিনিটে উন্ডাভের পাসে গোল করেন রির্টজ। ৫৭ মিনিটে উন্ডাভের জোড়া গোল পেতে সাহয্য করেন কার্ল। পাভলোভিচের অ্যাসিস্টে ৬৩ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন মুসিয়ালা।
ম্যাচজুড়ে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল জার্মানি। মোট ২২টি শটের ৭টি লক্ষ্য বরাবর ছিল। ম্যাচে ৭০০টি পাস ছিল জার্মানদের। ফিনল্যান্ডের পাস ছিল সাড়ে ৩০০টি। প্রতিপক্ষের বক্সেই ব্যাস্ত ছিল জার্মানরা, যেখানে তাদের পাসের সংখ্যা ৫৩টি। জার্মানির বক্সে ফিনল্যান্ডের পাস ছিল কেবল ১০টি।
শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণও বেশ ধরে রেখেছিল জার্মানি। নিকো শ্লোটারবেক, জোনাথন তাহ এবং কিমিচদের দেয়াল ভাঙতে সক্ষম হয়নি ফিনল্যান্ড। ম্যাচজুড়ে ফিনিশদের একটি শটও লক্ষ্য বরাবর ছিল না। একটি বলও সেভ না করে ম্যাচে ক্লিনশিট রাখেন জার্মান গোলরক্ষক অলিভার বাউম্যান।
সাধারণত বিশ্বকাপের আগের প্রস্তুতি বলে দেয় একটি দলের মহাযজ্ঞে পরফম্যান্স কেমন হতে পারে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাও গত দুই বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঘুচিয়ে এবারের আসরে সর্বোচ্চ সাফল্য ছিনিয়ে আনতে প্রস্তুত। বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে নবাগত কুরাসাও, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেলবে জার্মানি। জুনের ১৪ তারিখ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ যাত্রা করবে দেশটি।








