বিশ্বকাপ শেষ ৮ দিন আগে, আসরের ফাইনাল শেষে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণে জড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা-স্পেন। এতদিন পেরিয়ে সেটি নিয়ে বললেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিজের খেলোয়াড়দের পক্ষ নিয়েছেন। তার মতে, সমালোচকরা আর্জেন্টাইনদের চেনেন না। সঙ্গে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পরও স্কালোনি শিষ্যদের ‘যোদ্ধা’ বলেছেন।
ফাইনালজুড়ে আগ্রাসী খেলা এবং শেষ বাঁশির পর খেলোয়াড়সুলভ আচরণের অভাবের জন্য আলবিসেলেস্তেদের নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে প্রতিপক্ষ ও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠে স্পেন দলের সদস্যদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও সহ-কোচের সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় ফিফা একটি তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে বিশ্বকাপ শেষে নিজ শহরে ফিরেছেন স্কালোনি। এক সপ্তাহ পেরিয়ে ম্যাচের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘একটি কঠিন সপ্তাহের পর, দুঃখের সাথে আনন্দ, অশ্রুর সাথে হাসি, উদ্বেগের সাথে প্রশান্তি এবং স্নায়ুচাপের সাথে যখন স্থিরতা মিশে যায়, তখন আমি কয়েকটি কথা লিখতে বসতে পারি।’
‘শুধু এটুকুই বলতে চাই, আমি দুঃখিত যে আপনাদের আরেকটি কাপ এনে দিতে পারিনি এবং আনন্দের এমন কোন নতুন উৎস দিতে পারিনি। মাত্র কয়েকদিনের জন্য হলেও, জীবনের সমস্ত কুদর্শনতা ভুলিয়ে দিতে পারত। কিন্তু আমি চাই, খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আপনাদের যা দেখানোর চেষ্টা করেছি, তা আপনারা গ্রহণ করুন। তারা যোদ্ধা, আমি আমার স্ত্রীর কাছে তাদের সম্পর্কে সবসময় এভাবেই বর্ণনা করি।’
‘প্রচেষ্টা, উদ্যম এবং আবেগ, আমার মনোভাব হল হাল না ছাড়ার মানসিকতা। এমনকি যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে বা আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, তখনও নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করা। যারা আমাদের চেনেন না, তারাই সমালোচনা করতে থাকেন।’
‘আমার কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, এএফএ স্টাফ, যারা আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নেপথ্যে নীরবে কাজ করেন, যারা ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।’
১৯ জুলাই রাতে নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত জালের দেখা পায়নি কোন দল। অতিরক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ালে, ১০৬ মিনিটে গোলের দেখা পায় লা রোজারা। ডান পাশ থেকে আসা বল হেডে ফেররান তরেসের পায়ের সামনে দেন নিকো উইলিয়ামস। বাম পায়ের শটে জাল কাঁপান ২৯ বর্ষী বার্সা তারকা তরেস। আসে শিরোপা।







