বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ শুরু হওয়ার বাকি আর হাতে গোণা কয়েক দিন। বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, ফুটবলকে ঘিরে অসংখ্য গল্প, সংগ্রাম, আবেগ আর কিংবদন্তীরও পুনর্জাগরণ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা শুরু হওয়ার আগে ফুটবলপ্রেমীরা চাইলে ডুব দিতে পারেন এমন কিছু সিনেমা ও ডকুমেন্টারিতে, যেসব সিনেমায় উঠে এসেছে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের জীবন, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং মানবিক সব গল্প।
বিশ্বকাপের আবহে বাংলাদেশি দর্শকরা দেখে নিতে পারেন ফুটবলকে ঘিরে এমন দশটি সিনেমা, যা হয়তো আসন্ন বিশ্বকাপ উপভোগ করার বিষয়টি বাড়িয়ে দিবে বহু গুণে-
১. পেলে (২০২১)
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নামগুলোর একটি পেলে! ব্রাজিলের এই কিংবদন্তী ফুটবলার মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। পরে আরও দুটি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের একমাত্র তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার হন।
নেটফ্লিক্সের এই ডকুমেন্টারিতে পেলের মাঠের জাদুকরী মুহূর্তের পাশাপাশি উঠে এসেছে সামরিক শাসনের সময়কার ব্রাজিল, তার জনপ্রিয়তা এবং দেশের মানুষের কাছে তার গুরুত্ব।
২. ডিয়েগো ম্যারাডোনা (২০১৯)
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত অথচ সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রদের একজন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে প্রায় একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো ম্যারাডোনার জীবন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। এই ডকুমেন্টারিতে তার নেপলসে কাটানো সময়, বিপুল জনপ্রিয়তা, মাদকাসক্তি, বিতর্ক, রাজনৈতিক দর্শক এবং পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
ম্যারাডোনাকে বুঝতে চাইলে এটি অবশ্যই দেখা উচিত।
৩. মেসি (২০১৪)
বর্তমান ফুটবল যুগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি হয়তো অনেকেই দেখে ফেলেছেন। তবে যারা এখনো দেখেননি, বিশ্বকাপের আবগ থাকতেই দেখে ফেলুন।
ছোটবেলায় শারীরিক বৃদ্ধি-সংক্রান্ত (হরমুন সমস্যা) সমস্যায় ভোগা এক লাজুক ছেলের বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প এখানে উঠে এসেছে। বার্সেলোনায় তার উত্থান, পরিবারের ত্যাগ এবং স্বপ্নপূরণের গল্প ফুটবলপ্রেমীদের আবেগাপ্লুত করবে।
৪. রোনালদো (২০১৫)
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবনের অন্দরমহল দেখার সুযোগ করে দিবে এই ডকুমেন্টারি। কীভাবে কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তি একজন মানুষকে বিশ্বসেরা তারকায় পরিণত করতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ এই চলচ্চিত্র। রোনালদোর পরিবার, সন্তান এবং ব্যক্তিগত জীবনও এখানে দেখা যায়।
৫. জিদান: আ টুয়েন্টি ফার্স্ট সেনচুরি পোট্রেট (২০০৬)
এটি অন্যসব ফুটবল ডকুমেন্টারি থেকে একেবারেই আলাদা। একটি ম্যাচ চলাকালে পুরো সময়জুড়ে শুধু জিনেদিন জিদানকে অনুসরণ করেছে ক্যামেরা। তার দৃষ্টি, হাঁটা, পাস দেওয়া, চিন্তা- সবকিছু কাছ থেকে দেখানো হয়েছে। ফুটবলের শিল্পরূপ বুঝতে চাইলে এটি হতে পারে যে কোনো দর্শকের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা।
৬ গারিঞ্চা: জয় অব দ্য পিওপল (১৯৬২)
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী গারিঞ্চাকে অনেকেই সর্বকালের সেরা ড্রিবলার মনে করেন। সাধারণ মানুষ থেকে জাতীয় নায়ক হয়ে ওঠা এই ফুটবলারের গল্প যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি তার ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডিও হৃদয়বিদারক। পুরোনো হলেও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি এটি।
৭. দ্য টু এসকোবারস (২০১০)
এটি শুধু ফুটবল নয়, অপরাধ ও রাজনীতির গল্পও। কলম্বিয়ার ফুটবলার আন্দ্রেস এসকোবার এবং মাদক সম্রাট পাবরো এসকোবারের জীবনকে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর আন্দ্রেস এসকোবারের হত্যাকাণ্ড ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি। সেই গল্পই দেখানো হয়েছে এখানে।
৮. বিকামিং জ্লাতান (২০১৫)
আজকের সুপারস্টার হওয়ার আগে জ্লাতান ইব্রাহামোভিচ কেমন ছিলেন? এক অভিবাসী পরিবারের দুষ্টু, বিদ্রোহী এক কিশোর কীভাবে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হয়ে উঠলেন, সেই গল্প বলা হয়েছে এই ডকুমেন্টারিতে। জ্লাতানের আত্মবিশ্বাস ও লড়াইয়ের গল্প তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।
৯. দ্য ডে ব্রাজিল ওয়াজ হেয়ার (২০০৫)
ফুটবল যে শুধু খেলা নয়, কখনো কখনো কূটনীতি ও শান্তির বার্তাও হতে পারে, সেটি দেখায় এই চলচ্চিত্র। ২০০৪ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের হাইতি সফরকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে ফুটবল একটি সংকটাপন্ন দেশের মানুষের মাঝে আশা ও আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পারে।
১০ জর্জ বেস্ট: অল বাই হিমসেল্ফ (২০১৬)
জর্জ বেস্ট ছিলেন ফুটবল বিশ্বের প্রথম সুপারস্টারদের একজন। অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও মদ্যপান ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তার ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যায়। এই ডকুমেন্টারিতে তার সাফল্য, খ্যাতি এবং পতনের করুণ কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। লাউড এন্ড ক্লিয়ার রিভিউ







