বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৭ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে দেয়া হলো একুশে পদক-২০২৫। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পদক তুলে দেন।
এ বছর শিল্পকলায় পাঁচজনকে দেয়া হয়েছে একুশে পদক। পদক বিজয়ীরা প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নিজ নিজ পদক গ্রহণ করেন। মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ীদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যরা এই পদক গ্রহণ করেন।
একুশে পদক হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন গুণী নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। পদকটি নিজের পিতাকে উৎসর্গ করেন শিল্পী।
পদকপ্রাপ্তির পর অনুভূতি প্রকাশ করে এদিন ফেরদৌস আরা বলেন, “শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার একজন নিরলস যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে ভেবে আসছি, এবং ভাবতেও চাই। আমার এই সকল কিছুর পেছনে এবং সংগীত ভুবনে প্রবেশের জন্য যে মানুষটির অবদান আজ না বললেই নয়, তিনি হলেন আমার পিতা। ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন প্রকৌশলী এবং উচ্চাঙ্গ সংগীত বিশারদ এ এইচ এম আবদুল হাই। আজকে আমাকে যে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়া হলো, এটি আমি আমার বাবার উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।”
একুশে পদক ২০২৫ প্রাপ্তিতে এই শিল্পী বলেন, “দেশের প্রতি ইতিবাচক চেতনা জাগাতে বরাবরই শিল্পীরা বড় ভূমিকা পালন করেন। একজন শিল্পী হিসেবে আমি মনে করি, যাবতীয় কল্যাণ ও ভালোর জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো- একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি। আমি চেষ্টা করে আসছি, শুদ্ধ সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে আমার দেশ প্রেম ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাকে অব্যাহত রাখতে। একুশে পদক-২০২৫ আমাকে আরো শক্তি ও প্রেরণা যোগাবে।”
শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে ৫ জনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় এই পুরস্কার পেয়েছেন ‘ছুটির ঘণ্টা’ খ্যাত নির্মাতা আজিজুর রহমান (মরণোত্তর)। এই পুরস্কারটি গ্রহণ করেন প্রয়াত আজিজুর রহমানের কন্যা আলিয়া রহমান বিন্দি।
ফেরদৌস আরা ছাড়াও এবার সংগীতে একুশে পদক পেয়েছেন উস্তাদ নীরদ বরণ চৌধুরী (মরণোত্তর)। নীরদ বরণ বড়ুয়ার মেয়ে শিল্পী ফাল্গুনী বড়ুয়া পদক গ্রহণ করেন। সশরীরে উপস্থিত হয়ে চিত্রকলা ও আলোকচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই পদক গ্রহণ করেন যথাক্রমে রোকেয়া সুলতানা এবং নাসির আলী মামুন।







