নুর উল্লাহ কায়সার: ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অন্যান্য দাবিতে আজ দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।
বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তারা ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের উত্তরাংশে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী দুই লেনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর আগে ব্যক্তিগত কারণে ফেনী ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. জামালউদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেছন। বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যেতে আহ্বান জানালে তারা সাড়া দেন। বিকল্প কর্মসূচি হিসেবে পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিক্ষোভ করেন এবং সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তারা স্থায়ী ক্যাম্পাস, নিজস্ব পরিবহন সার্ভিস, দায়িত্বশীল প্রশাসন, রাজনীতি মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি জানিয়ে আসছেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—
- ফেনী ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন
- ট্রান্সপোর্টের জন্য নিজস্ব বাস সার্ভিস চালু
- বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যোগ্য, আন্তরিক ও দায়িত্ববান ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ
- রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস
- পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ
- বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) চেয়ারম্যান পরিবর্তন করে আন্তরিক ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক বছরের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার দাবি তুলে ধরা হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ১৫ দফা দাবি পেশ করে। এরপর ২১ অক্টোবর ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তারা আবারও একই দাবিতে আন্দোলনে নামে। প্রত্যেকবারই কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তারা যাতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন না ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কোনো অরাজকতা চাই না, চাই ন্যায্য অধিকার। আমাদের দাবি দীর্ঘদিনের—কিন্তু শুনছে কে? তাই এবার রাস্তায় নেমেছি।








