ফেনীতে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার ৯ মে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে দুপুর ১টার দিকে ফেনীর ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসল, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় ৯৭৬টি গাছ উপড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙেছে ১১৭টি। মিটার নষ্ট হয়েছে ৫০৯টি। ৮৩৯ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে।
জানা যায়, ঝড়ে প্রায় এক হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা। আনুমানিক এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমি এবং ২৫ কিলোমিটার রাস্তার পাশের গাছের ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া, জেলাজুড়ে আনুমানিক ৫৫৭টি বাড়ি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎখাতে। ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ও তার ছিঁড়ে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। জেলায় পল্লী বিদ্যুতের চার লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজার গ্রাহকের সংযোগ চালু করা হয়েছে। বাকি সংযোগগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

ফেনী কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. একরাম উদ্দিন উদ্দিন জানান, ফেনীতে কৃষি জমিতে ধান পরিপক্ক অবস্থায় বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে হেলে গিয়েছে এবং কিছু পানিতে ডুবে গেছে। আমরা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছি যে এ সমস্ত ধান গুলা তাড়াতাড়ি কেটে ফেলার জন্য।
ফেনী পল্লী বিদ্যুতের জিএম ফজলুর রহমান জানান, জেলার চার লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৪০ শতাংশের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। বাকি সংযোগ চালু করতে মাঠ পর্যায়ে বিদ্যুৎ কর্মীরা কাজ করছেন।







