“অতীতে দেশটা পরিকল্পিতভাবে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সবার, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করা হবে না।”-বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
‘গান, বাজনা ও নাচকে সংস্কৃতি মনে করা হতো। এর বাইরে ধর্মীয় সংস্কৃতি আছে সেটাকে আমলে নেওয়া হতো না।’-এ থেকে বের হয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা।
এদিন ফারুকী বলেন, আগে ইসলামি সংস্কৃতি নিয়ে কোনো কিছু করলে মৌলবাদী, জামায়াত শিবির বলা হতো। ১৯৯৩ সালে ‘বিষাদসিন্ধু’ নাটক করার কারণে সৈয়দ জামিল আহমেদকে জামায়াত শিবির ট্যাগ দেওয়া হয়েছিল। এর থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে নিয়ে কাজ করবো।
তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি এবং সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে ‘তারুণ্যের উৎসব’, ‘দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান’সহ সাতটি অগ্রাধিকার কার্যক্রমের কথা এসময় ঘোষণা করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসব কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। যেসবের মধ্যে রয়েছে- ‘রিমেম্বারিং মুনসুন রিভোলিউশন’, ‘তারুণ্যের উৎসব’, ‘দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান’, ‘ডিজিটাল ওরাল হিস্ট্রি প্রকল্প’, ‘বাংলা একাডেমি সৃজনশীল লেখালেখি কর্মশালা ও গবেষণা প্রকল্প’, ‘জাতীয় জাদুঘরে আধুনিক ভিডিও প্রক্ষেপণ ব্যবস্থা স্থাপন’ এবং ‘শো-ক্রিয়েটর ওয়ার্কশপ’।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “বিপ্লবের পর এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ‘কালচারাল ব্রিজ’ তৈরি করা। আমরা বলতে চাই, এই বাংলাদেশটা সবার। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করা যাবে না। আমাদের সাংস্কৃতিক পলিসির মূলে থাকবে বহু জন, বহু ধর্ম, বহু ভাষা, সবার সংস্কৃতি এবং সবার সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর জন্য আমরা কাজ করতে চাই।”
কথা প্রসঙ্গে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, অপরাধীরা তাদের চিহ্ন মুছে ফেলতে চায়। যে গণহত্যা হয়েছে এই অপরাধের জন্য অপরাধীরা ক্ষমা চায়নি। গণহত্যায় শহীদদের পরিবারের, আহতদের বক্তব্য নিয়ে আর্কাইভ করা হবে। এজন্য সবাইকে বক্তব্য দেয়ার আহ্বান জানাবো। যখন সবাই ভিডিও বক্তব্য দেবে, পাঠাবে তখন অপরাধীদের ৫০ বছরেও এর দায় পালানোর সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলনে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ২৪ এর বিপ্লবে রিনিউড হয়েছে। ২৪ এর চেতনায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা আরো বেগবান হবে। তবে ফ্যাসিস্টদের বিচারে বিঘ্ন ঘটানোর পক্ষের মত তো অধিকার না।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় নিজেদের দপ্তর নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী প্রমুখ।







