পরিচালক হিসেবে দর্শকের কাছে নিজেকে বার বার প্রমাণ করে যাচ্ছেন রায়হান রাফী। ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ’ হিসেবে ইতোমধ্যেই আলাদা দর্শক শ্রেণি তৈরি করেছেন সময়ের আলোচিত এই নির্মাতা। সবশেষ ঈদে রাফী ‘পরাণ’ সিনেমার মাধ্যমে নিজের মুন্সিয়ানার প্রমাণ দিয়েছেন। মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও দেশ-বিদেশে আগ্রহ নিয়ে ‘পরাণ’ দেখছে দর্শক।
তবে শুধু বড় পর্দায় নয়, সমানতালে ওয়েবেও একের পর এক দাপট দেখাচ্ছেন এই তরুণ নির্মাতা। ইতোমধ্যে ওটিটিতে জানোয়ার, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ও ৭ নম্বর শুটিং ফ্লোর- নির্মাণ করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ওটিটির জন্য আরও একটি নতুন কনটেন্ট নিয়ে উপস্থিত রাফী!
দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির জন্য রাফী নির্মাণ করেছেন ‘নিঃশ্বাস’! এটি ওয়েব ফিল্ম। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এর ফার্স্ট লুক। যেখানে অগ্নিরূপী তাসনিয়া ফারিণ! এক মিনিটের টিজার লুকটি ইতোমধ্যে দর্শকের পছন্দের তালিকায়। যা দেখে দর্শকের বিশ্বাস, নিঃশ্বাস-এর মাধ্যমে রাফী আরও একবার চমকে দিতে চলেছেন!
‘নিঃশ্বাস’ এর টিজার লুকে ‘বিধ্বংসী’ রূপে দেখা দিয়েছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। চোখে আর অভিব্যক্তিতে অগ্নিমূর্তি। এমন লুকে নিরীহ গোছের ফারিণকে দেখে নেটিজেনদের বাহবা যেন থামছেই না!
ফারিণ বলেন, এখানে আমি যে চরিত্র করেছি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সেখানে মূলত ছেলেদেরকেই বেশি ভাবা হতো। কিন্ত বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, কাজের জায়গাতে এমনকি ভাবনাগুলোতেও। এখন সবাই ভিন্ন ভিন্ন কাজের চেষ্টা করছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে, এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের জন্য আমাকে ভেবেছেন পরিচালক। সর্বপরি চিন্তাধারার যে পরিবর্তন এসেছে, সেটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
নিঃশ্বাস-এ ১২ দিনের মতো শুটিং করেছেন ফারিণ। শুটিং শেষে কয়েকদিন আগে গেছেন থাইল্যান্ডে। সেখানে থেকে তিনি বলেন, যেহেতু এই চরিত্রটা একজন ছেলেও প্লে করতে পারতো তাই আমার জন্য অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিভিন্নভাবে চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। নরমাল গেটাপে, চরিত্রের প্রয়োজনে ঢাকা মেডিকেল কলেজে গিয়েছি ২/৩ দিন, সেখানে কিছু বিষয় শেখার চেষ্টা করেছি। তারপর অস্ত্র চালানোর জন্য বেসিক ধারণা প্রয়োজন ছিল, এরজন্য কিছুদিন ট্রেনিংও নিয়েছি। বলা যায়, যতটুকু সম্ভব আমি চেষ্টা করেছি। এখন বাকিটা দর্শক দেখার পরই বলুক।
এদিকে, নিঃশ্বাস-এ শুধু ফারিণ নয়, শিল্পীদের তালিকায় আরও চমক আছে বলে জানালেন রায়হান রাফী। তিনি বলেন, সিনিয়র জুনিয়র মিলিয়ে ৫০-৬০জন শিল্পী আছে। আগামী মাসে মুক্তির আগেই জানা যাবে। ‘পরাণ’র প্রচারণায় সোমবার সিলেটে আছেন রাফী। সেখান থেকে এদিন দুপুরে এই নির্মাতা বলেন, যতগুলো কাজ করেছি সবচেয়ে এক্সপেরিমেন্টাল কাজ ‘নিঃশ্বাস’। আমার অন্য কাজগুলোর চেয়ে এর গল্প বলার স্টাইল, নির্মাণ প্যাটার্ন, কনসেপ্ট আলাদা।
”নিঃশ্বাস একটি হাসপাতালের গল্প। এখানে কেউ জন্ম নিলে নিঃশ্বাস নিয়েই জন্মায়, আবার কেউ মারা গেলে নিঃশ্বাস হারিয়েই মারা যায়। হাসপাতালে যে যুদ্ধ হয় নিঃশ্বাস থাকা ও না থাকা নিয়েই হয়। এমন যুদ্ধের মধ্যেই আরেকটি যুদ্ধের কনসেপ্ট নিয়েই ‘নিঃশ্বাস’। এরমধ্যে অ্যাকশন আছে। আমি নতুন ঢং-এ গল্প বলার চেষ্টা করেছি। এটি পুরোটাই ফিকশনাল গল্প, ফিলসোফিক্যাল থট আছে। বাণিজ্যিক চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে বানিয়েছি।”
ওটিটি ও সিনেমা হল মিলিয়ে এতো কাজ কীভাবে করছেন জানতে চাইলে রায়হান রাফী বলেন, আমি সিনেমার মধ্যেই থাকি। সিনেমার মধ্যে খাই, ঘুমাই। গল্পের মধ্যে থাকি। জীবনটাই সিনেমা। যখন থেকে সিনেমাতে কাজ শুরু করেছি তখন থেকে এক সপ্তাহের জন্য ব্রেক নেইনি। আমি কাজের মধ্যে থাকতেই পছন্দ করি। এজন্য বোধহয় দর্শককে এতো এতো সিনেমা দিতে পারছি।








