শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টায় প্রয়াত হন দেশের কিংবদন্তী লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
এদিন রাতে হাসপাতালে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান শিল্পীর স্বামী প্রখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ গাজী আব্দুল হাকিম।
তিনি জানান, রবিবার সকাল দশটা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ফরিদা পারভীনকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হবে৷ যেখানে সর্বস্তরের মানুষ শিল্পীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ রাখা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে বাদ যোহর হবে জানাজা।
তবে ফরিদা পারভীনের দাফন কোথায় হবে, সে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। শিল্পীর ছেলে ইমাম নাহিল জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ফরিদা পারভীনকে নিয়ে যাওয়া হবে কুষ্টিয়ায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হবে।
তবে গাজী আবদুল হাকিম জানান, ফরিদা পারভীন দেশের সম্পদ। তিনি জাতীয় পুরস্কার পাওয়া একজন দেশ বরেণ্য শিল্পী৷ একুশে পদকসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি- আমার বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেন তার দাফন হয়।
১৯৫৪ সালে জন্ম নেয়া ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত দিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালনসংগীতে তালিম নিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন লালনসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তী।
শিশুদের লালন সংগীত শেখানোর জন্য তিনি অচিন পাখি স্কুল নামে একটি গানের স্কুল গড়ে তুলেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। পরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান তিনি।








