দিনাজপুরে আলোচিত ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট আনিকা তাসনিম সরকার তিশা ওরফে মোছা. আঞ্জুমান আরা আজমেরিকে (৩০) আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সাথে তার আরেক সহযোগিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২০ জুন দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ। এরআগে স্থানীয় জনগণ তাদেরকে আটক করে জাতীয় জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ এ কল দেয়। সেখান থেকে কল পেয়ে গতকাল বুধবার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
আনিকা তাসনিম সরকার তিশা ওরফে মোছা. আঞ্জুমান আরা আজমেরি গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এরআগেও তিনি একাধিকবার ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেয়ার কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মানুষের সাথে বারবার প্রতারণা করার কারণে বাবার পরিবার থেকেও তার সঙ্গে সকল ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আনিকা তাসনিম সরকার তিশা দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলা শহরের কাটাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা সাবেক মেয়র শাহজাহান আলী সরকারের মেয়ে এবং সিলেট কারাগারের কারারক্ষী মো. আব্দুল মান্নানের তালকপ্রাপ্ত স্ত্রী। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে রোকেয়া ছাত্রী নিবাসে বসবাস করেন। তার সহযোগী সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা মিস্ত্রিপাড়া জিন্নাহ কাব পাড়ার তরিকুল ইসলামের ছেলে শাহাদত হোসেনকেও (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বাদী আল আমিনকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। পরে তিনি জানতে পারেন, আনিকা একজন ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি বিভিন্ন সময় মানুষের সঙ্গে চাকরি দেয়ার নাম করে প্রতারণা করেন। বুধবার সকালে তিনি জানতে পারেন, ওই ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট তার সহযোগী শাহাদত হোসেনের বাড়িতে অরস্থান করছে। এ সময় তিনি স্থানীয়দের জানালে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘেরাও করে রেখে জাতীয় জরুরী সেবায় কল দেয়। সেখান থেকে পুলিশ আনিকা ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, স্থানীয়দের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামীরা জানায়, জনৈক জুয়েলের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, সুমন আলীর কাছ থেকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা, মোছা. রীনা খাতুনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা, ইমতিয়াজ আলীর কাছ থেকে দু’লাখ ২০ হাজার টাকা, রাজু বাবুর কাছ তেকে ৮৫ হাজার টাকা, সুয়েজ ইসলামের কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং বাদী আল আমিনের কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে নিয়েছেন।
এছাড়াও তিনি একই অপরাধে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি দিনাজপুরে, তারও আগে, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এটাকেই তিনি পেশা হিসেবে নিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিন্নাহ আল মামুন বিষয়গুলো নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কোর্টে নিলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। আসামীদের জন্য রিমান্ডে চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।










