গাজার উপর ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংগীতশিল্পীরা অতীতে বিভিন্ন সময়ে যেসব গান তৈরি করেছেন, সেগুলোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ইস্যুটি আবারও আরব সংস্কৃতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এই গানগুলোতে আছে বেদনা, ক্ষোভ ও প্রতিরোধের বার্তা — কেউ কেউ সরাসরি হামাসের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ ব্যথিত কণ্ঠে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা তুলে ধরছেন।
কায়রোতে জনপ্রিয় ইজিপশিয়ান ওয়েডিং সিঙ্গার রুডি গাইছেন এক নতুন গান,“আবু ওবাইদা, হে সিংহ হৃদয় … আগুন জ্বেলে দাও!” আবু ওবাইদা হলেন হামাসের সামরিক মুখপাত্র, যিনি মুখ ঢেকে ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরেন। রুডির এই গান এখন বিবাহ অনুষ্ঠানেও গাওয়ারও অনুরোধ আসছে।
জর্ডানে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে আরব বিশ্বের ২৫ জন শিল্পী একত্র হয়ে একটি গান রেকর্ড করেন— যেখানে তারা “ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন” তুলে ধরেন। গানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে।
এই সংগীতপ্রবাহ নতুন কিছুর ইঙ্গিত বলেও মনা করা হয়। অনেক শিল্পী, যারা আগে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেন, এখন গাজা নিয়ে মুখ খুলছেন।
এটা শুধু হামাসের প্রতি সহানুভূতি নয় — বরং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরব জনসাধারণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। গেল বছর দোহা ইনস্টিটিউটের জানুয়ারির এক জরিপে ৬৭% উত্তরদাতা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উপর হামাসের হামলার ঘটনাকে “বৈধ প্রতিরোধ” বলেছেন। শুধু ৫% এটিকে “অবৈধ” বলেছেন।
জরিপে ৭৫% মানুষ মনে করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সৌদি আরবেও ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জরিপে ৯৬% মানুষ চেয়েছেন ইসরায়েলের সাথে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে।
পূর্বে যেখানে গালফ রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছিল, এখন আবার ফিলিস্তিন প্রশ্ন অঞ্চলজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে — সোশ্যাল মিডিয়াতে, ঘরের আড্ডায়, এমনকি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে।
লেবানিজ সংগীতশিল্পী জেইদ হামদান বলেন, “আমি এখন স্টেজে উঠি মানুষকে জাগিয়ে তোলার জন্য — নিজের প্রচারের জন্য না।” তিনি এক অনুষ্ঠান থেকে আরেক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, শুধুই গাজা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে।
কুয়েতি শিল্পী হুমুদ আল খুদার একটি মিউজিক ভিডিও করেছেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রাচীন প্রতীক কুফিয়া স্কার্ফ, ১৯৪৮ সালে হারানো ঘরের চাবি এবং হ্যান্ডালা নামের কার্টুন শিশুর উপস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
সংগীতশিল্পী ঘালিয়া চাকের। যিনি “রিটার্নিং” শিরোনামের একটি গানে অংশ নেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা জানুক—গাজার মানুষ আমাদের হৃদয়ে আছেন।” তিনি বলেন, “গান হয়তো যুদ্ধ থামাতে পারবে না, কিন্তু আমরা যেন ভুলে না যাই।”
‘হোয়ার আর দ্য মিলিয়নস?’-লেবাননের গায়িকা জুলিয়া বুতরোসের এই গানটি আরব বিশ্বের নীরবতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে। ‘আনা সামেদ’- ফিলিস্তিনি গায়ক মোহাম্মদ আসসাফের এই গানটি প্রতিরোধ ও অটল থাকার বার্তা দেয়। ‘জাহরাত আল-মাদা এন’- ফাইরুজের এই গানটি জেরুজালেম শহরকে কেন্দ্র করে লেখা, যা ফিলিস্তিনিদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগ জড়িত।
শুধু আরবের শিল্পীরাই নয়, ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বা দমননীতির বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গানে সুরে প্রতিবাদ জারি রেখেছেন মানবতাবাদী শিল্পী সমাজ। এরমধ্য দিয়ে শিল্পীরা প্রমাণ করেছেন—যুদ্ধের মুখেও থেমে থাকে না সুর।








