শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ‘এমব্রায়োনিক শিফটস’ প্রদর্শনী

ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে উদ্বোধন হয়েছে বহুমাত্রিক শিল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনী ‘এমব্রায়োনিক শিফটস (রূপান্তর)’। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) বাংলাদেশ ২০২৬’ কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে শিল্প, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর আলোকির ‘শালা নেইবারহুড আর্ট স্পেস’-এ প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হয়। আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দর্শনার্থীরা বিনা মূল্যে এটি দেখতে পারবেন।
আয়োজকেরা জানান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা ও গণিতের সমন্বয়ে তৈরি এ প্রকল্পে প্রকৃতি, মানুষের পরিচয়, আত্মোপলব্ধি এবং বৈচিত্র্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
‘পার্সিস্টেন্স অব ভিশন’ বা দৃষ্টির স্থায়িত্ব নিয়ে গবেষণাভিত্তিক শিল্পচর্চা থেকেই প্রকল্পটির ধারণার সূত্রপাত। স্থির ছবিকে দ্রুত ঘোরানোর মাধ্যমে চোখে চলমান দৃশ্যের যে ভ্রম তৈরি হয়, সেই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে আলো, গতি ও যান্ত্রিক কাঠামোর সমন্বয়ে শিল্পকর্মটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ বড় আকারের একটি জ্যোট্রোপ। কোনো স্ক্রিন, ফিল্ম বা ডিজিটাল প্রজেকশনের প্রয়োজন ছাড়াই ঘূর্ণনের মাধ্যমে চলমান দৃশ্যের ভ্রম তৈরি করে এই কাইনেটিক ভাস্কর্য।
কড়াইলের তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, গবেষণা ও কারিগরি কাজের মাধ্যমে কোষীয় প্রক্রিয়া এবং ভ্রূণের বিকাশের মতো জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কে ভিজ্যুয়াল আর্টের ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। একাডেমিক জটিল পরিভাষা এড়িয়ে প্রমাণভিত্তিক বিজ্ঞানকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রদর্শনী সম্পর্কে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বলেন, ‘এমব্রায়োনিক শিফটস’ শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যতিক্রমী সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। আত্মপরিচয় ও বৈচিত্র্যকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৬’ কর্মসূচির মাধ্যমে এমন শিল্পী ও সৃজনশীল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে ব্রিটিশ কাউন্সিল গর্বিত, যারা প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে নারী, কিশোরী ও তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন।
প্রকল্পটির গল্প ও ভিজ্যুয়াল নকশা তৈরি করেছেন মাল্টিডিসিপ্লিনারি শিল্পী ও অ্যানিমেটর সায়কা শবনম চৌধুরী। প্রকল্পটির যান্ত্রিক কাঠামো ও নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন ফ্যাব একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী সামিউল হক।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ম্যাকান, পারা এবং শালা নেইবারহুড আর্ট স্পেসকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
আয়োজকদের মতে, ‘এমব্রায়োনিক শিফটস’ বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবিকতার বিভিন্ন দিককে একই সঙ্গে দেখার সুযোগ তৈরি করছে। পাশাপাশি দর্শকদের প্রচলিত ধারণা নতুনভাবে ভাবতে এবং বৈচিত্র্যের প্রতি আরও সহমর্মী হতে উৎসাহিত করবে এ প্রদর্শনী।






