যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশাসনিক ভুলে যে ব্যক্তিকে এল সালভাদোরের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে ফেরত পাঠানো হবে না। এল সালভাদোরের প্রেসিডেন্ট বুকেলে দেখা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) এল সালভাদোরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার পর একথা জানান।
বুকেলেকে ওভাল অফিসে স্বাগত জানান ট্রাম্প। এর পর মিডিয়া তাদেরকে এই ব্যক্তি নিয়ে প্রশ্ন করায়, বুকেলে জানান, “নিশ্চয়ই আমি ফেরত পাঠাবো না। খুবই অযৌক্তিক প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানোর কোনো অধিকার আমার নেই।”
সম্প্রতি প্রশাসনিক ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এল সালভাদোরের একটি সন্ত্রাস-দমন কারাগারে পাঠানো হয়েছিল কিলমার অ্যাব্রেগো গার্সিয়াকে। এর বিরুদ্ধে তার বাবা একটি মামলা করেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে শীঘ্রই তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
বুকেলে-ট্রাম্প বৈঠক
এল সালভাদোরের রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে দৃশ্যত খুশি ট্রাম্প। এমনকী, অ্যামেরিকা থেকে আরও নির্বাসনের সম্ভবনাকে সামনে রেখে ট্রাম্প বুকেলেকে আরও কারাগার বানাতে বলেন। দুজনের মধ্যে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়, যার ফলে অ্যামেরিকা ছয় কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময় কয়েদিদের এল সালভাদোরের কারাগারে পাঠাতে পারবে।
এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্প অ্যামেরিকার নাগরিকদেরকেও এল সালভাদোরে পাঠানোর কথা বলেন। সেই দুষ্কৃতিদের চিহ্নিত করতে গিয়ে তিনি বলেন, এরা তারা, যারা সাবওয়েতে মানুষদের ধাক্কা মারেন, বৃদ্ধাদের মাথায় বেস বল ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন।
নিজেদের মধ্যে রসিকতায় ট্রাম্প এবং বুকেলে দুজনেই নিজেদেরকে ‘একনায়ক’ বলে চিহ্নিত করেন। মাদকচক্র নির্মুল করার ক্ষেত্রে বুকেলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্পের সঙ্গে সদ্ভাব থাকে সত্ত্বেও, এই মাসের গোড়ায় এল সালভাদোরের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক লাগু করেন ট্রাম্প।
নির্বাসনের নীতি নিয়ে হোয়াইট হাউস-আদালত দ্বৈরথ
অ্যাব্রেগো গার্সিয়াকে একটি দুষ্কৃতি গোষ্ঠির সদস্য বলে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসন। তাকে চ্যালেঞ্জ করেন অ্যাব্রেগো গার্সিয়ার আইনজীবী। আরও ২০০ জনের সঙ্গে অ্যাব্রেগো গার্সিয়াকেও এল সালভাদোরের একটি কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে একটি নিম্ন আদালত ট্রাম্প সরকারকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে গার্সিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হলে সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয় কোর্ট। ১০ এপ্রিল নিম্ন আদালতের রায়কেই স্বীকৃতি দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাব্রেগো গার্সিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে সসম্মানে ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়।
সূত্র: ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)







