ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে ১২ রবিউল আউয়াল কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। রসুল সা. এর জন্ম তারিখ সম্পর্কে যদিও মতভেদ রয়েছে, কিন্তু এ ক্ষেত্রে সবাই একমত যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের কোন এক সোমবার হয়েছে। আর নির্ভরযোগ্য মতগুলো ৮-১২ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে খুব বেশি বিতর্ক না থাকলেও আগের ঐতিহাসিকদের মধ্যে কেউ কেউ ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ তার জন্ম বছর বলে উল্লেখ করেন।
আবার কেউ কেউ বলেন, প্রকৃতপক্ষে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে পিতা আবদুল্লাহর ঔরসে ও মাতা আমেনার গর্ভে তিনি আগমন করেন। ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভূমিষ্ঠ হন। আমাদের এ বিতর্কে না যাওয়াই ভালো।
তাঁর নেয়ামতের এই শুভ দিনটিকে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী অনেক মুসলমান এই দিনটিকে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে উদযাপন শুরু করেন। তবে মিলাদুন্নবী পালনের কথা হাদীসে নেই। তাই অনেক ইসলামিক স্কলার ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালনকে বিদআত হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।
তবে ১২ রবিউল আউয়াল তারিখের গুরুত্ব কতিপয় হাদীসের উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়। যেহেতু এই দিনটি বিশ্ব নবীর আগমনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে, সেহেতু এই দিনটিকে বেশি না করে শরীয়ত মোতাবেক পালন করাই উত্তম।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, এই দিনেই আমি প্রেরিত হয়েছি, এই দিনে আমার প্রতি পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’
স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পৃথিবীতে নবীর আগমন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত নাজিল করেছেন।
এই আয়াতগুলো থেকে আমরা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবো যে, পৃথিবীতে নবীর আগমনের ঘটনা সমগ্র বিশ্বের জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ। ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া – আয়াত ১০৯)
‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত পেয়ে খুশি হও, যা তোমার সমস্ত সম্পদের চেয়ে উত্তম।’ (সূরা ইউনুস – আয়াত নং: ৫৮)
‘আপনার উপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করুন।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ২০১)
‘হে প্রিয় রসূল! সেই দিনের কথা স্মরণ করুন, যেদিন আল্লাহ তায়ালা সকল নবীর কাছ থেকে এই বলে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমি যখন তোমাকে কিতাব ও হিকমতসহ দুনিয়াতে পাঠাব; তখন তোমার কাছে আমার মহান রাসুল আসবেন এবং সত্যের সাক্ষ্য দেবেন। আপনার নবুওয়াত ও কিতাব দিবেন। তাহলে অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং অবশ্যই তাকে যথাযথভাবে সাহায্য করতে হবে।আপনি কি এই কথাগুলো মেনে নিয়েছেন এবং এই শর্তে আমার প্রতিশ্রুতি মেনে নিয়েছেন? তাহলে একে অপরের সাক্ষী থাকুন এবং আমিও তোমাদের সাথে মহান সাক্ষী।’ (সূরা ইমরান – আয়াত: ৮১-৮২)
সুতরাং আমরা অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সা. এর দেখানো পদ্ধতি অনুসারে ইসলামের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালন করব। কেননা বিদায় হজের ভাষণে স্বয়ং রাসুল সা. বলেছেন, ‘যতদিন তোমরা পবিত্র কোরআন ও আমার জীবন বিধান অনুসরণ করবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না।’
বিশ্বাসী মুসলমান হিসেবে আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীর পথকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ।








