সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর কিছু এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আজ আগাম ঈদ উদযাপন করছেন অনুসারীরা।
আজ (১০ এপ্রিল) সোমবার সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রাজধানীর খিলগাঁও, পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও পটুয়াখালী, চাঁদপুর, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, বরিশাল, জামালপুর, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন অনুসারীরা।
রাজধানীর খিলগাঁও, পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত হয়েছে। এতে অংশ নেন কয়েক হাজার মুসল্লি। সকাল সাড়ে ৭টায় পান্থপথের একটি কনভেনশন সেন্টারে শিশু ও নারীসহ মুসল্লিরা জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ উদ্যাপনে অংশ নেন দেশে অবস্থানরত বিদেশি মুসলিমরাও।
পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদ ও কলাপাড়া উপজেলার উত্তর নিশান বাড়িয়া শাহ্ সূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের নামাজের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অনুসারী পরিবার গুলোতে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

দিনাজপুরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ আগাম ঈদ-উল-ফিরত উদযাপন করছেন পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে ঈদ-উল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরে ঈদ উদযাপন কমিটির সভাপতি মোকবুল হোসেন জানান, এবার জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ১৭টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টার, সদরের নিউটাউন, ফুলতলা,কাচারীর পেছনে ইসলামবাগ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় আগাম ঈদের জামাত। এছাড়াও চিরিরবন্দর উপজলার রাবার ড্যাম এলাকা,কাহারোল উপজেলা জয়নন্দ গ্রাম, ১৩ মাইল, বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়রা বাজার জামে মসজিদ, জোতবানী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি মির্জাপুর জামে মসজিদ এবং বিরল উপজেলার বালান্দোর গ্রামে আগাম ঈদুল আগাম ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হয়।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একদিন আগেই ৪০টি পরিবার ঈদ উদযাপন করছে। সকাল ৮ টায় স্থানীয় মসজিদের মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের শশীনাড়া গ্রামের কিছু মুসুল্লি ২০১২ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

মুন্সীগঞ্জের নয় গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মুসলমান ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর, শিলই, নায়েবকান্দি, আধারা, মিজিকান্দি, কালিরচর, বাংলাবাজার, বাঘাইকান্দির ও কংসপুরার গ্রামের কিছু অধিবাসী আজ ঈদ পালন করছেন। গ্রামগুলোর জাহাগীর তরিকার লোকজন কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।
জাহাগীর তরিকার নেতারা জানিয়েছেন, পৃথিবীর যে কোনো স্থানে নবচন্দ্র দেখা দিলে সেই অনুযায়ী ঈদ পালন করা উচিত। তাই আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছি।
মৌলভীবাজারে সকাল ৭টায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামক বাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরী জানান, কুরআন ও হাদিস অনুসারে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় চাঁদ দেখা গেলে রোজা এবং ঈদ পালন করতে হয় সেই অনুসারে আমরা আজ ঈদের নামাজ আদায় করলাম।
চাঁদপুরের ৫ উপজেলার অর্ধশত গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে। সকাল ৯টায় চাঁদপুরের সাদ্রা দরবার শরীফে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে জানিয়ে গতকাল রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী।

১৯২৮ সাল থেকে হাজীগঞ্জের রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন শুরু করেন। এরপর থেকে চাঁদপুরের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ রোজা ও আগাম ঈদ পালন করে আসছেন।
বরিশালের আজ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্তবরিশালের ৬ টি উপজেলা বাবুগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, সদর উপজেলা সহ মহানগরী মিলিয়ে ১০ হাজার মানুষ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একদিন আগে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

বরিশাল নগরীর তাজকাঠি, জিয়া সড়ক, টিয়াখালী, হরিনাফুলিয়া এবংসদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ ঈদ উদ্যাপন করছেন। এসব গ্রামের ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।
সকাল সোয়া ৮টায় দক্ষিণ বলারদিয়ার গ্রামে মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ ঈদগা মাঠে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে আজিম উদ্দিন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানান, দেড় যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্যাপন করে আসছেন।
কিশোরগঞ্জে সকাল ৭টায় উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের কলাদিয়া উত্তরপাড়া আবু বক্কর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ঈদের জামাতে মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসুম।

ঈদের জামাতে মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসুম জানান, দীর্ঘ ১ যুগের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রায় শতাধিক পরিবারে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে এ ঈদুল ফিতরের জামায়াতে অংশ নেয়। এই নামাজ নিয়ে অনেকের মাঝে মতপার্থক্য থাকলেও কোরআন-হাদিসের সঠিক নির্দেশনা মোতাবেক ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
মাদারীপুরের ৫ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার তাল্লুক গ্রামের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাত পড়ান চরকালিকাপুর ফরাজীবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান।

সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে জেলার সুরেশ্বর দায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রা.) এর অনুসারীরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। তারই ধারাবাহিকায় মাদারীপুরের প্রায় ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।
নোয়াখালীতে সকাল সাড়ে ৯টায় ২ উপজেলার ৮টি মসজিদে একযোগে ঈদের জামাতে অংশ নেন ৪ গ্রামের মুসল্লিরা। স্থানীয় বাসিন্দারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর একদিন আগে রোজা রাখেন। এছাড়াও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন।







