উৎসবমুখর পরিবেশ ও আমেজের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। টিএসসির ভোটকেন্দ্রসহ প্রতিটি হলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ও আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সদস্য। ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কয়টি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। বৈধ আইডি কার্ড ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নীলক্ষেত মোড়ের প্রবেশপথে বিজিবি সদস্যদের দেখা গেছে।
ডাকসুতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। পাঁচ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯, আর ১৩ ছাত্র হলে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫ জন। ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে বিভিন্ন পদে ৬২ জন ছাত্রী রয়েছেন। অন্য বারের তুলনায় এবার ডাকসুতে ব্যালটের আকার বেড়েছে। ডাকসুতে থাকছে পাঁচ পৃষ্ঠার ব্যালট, আর হল সংসদের থাকছে এক পৃষ্ঠা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ সামগ্রিকভাবে ভালো। শিক্ষার্থীরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। যদিও এতে ভোটারদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।
ভোট দিয়ে বের হয়ে শিক্ষার্থী লায়লা রহমান বলেন, আজকের দিনটা আমাদের জন্য উৎসবের দিন। এত বড় একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে সত্যিই দারুণ লাগছে।
ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ আর প্রত্যাশার কথা। শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ নির্বাচন থেকে উঠে আসবে যোগ্য ও কার্যকর নেতৃত্ব, যারা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করবে।
ডাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে আগে থেকেই লাইনে দাঁড়ান ভোটাররা। উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান আবিদসহ অন্যরা।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।







