এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসেও বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৮৫ পয়েন্ট কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। টানা ১৪ কার্যদিবস পর ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ভালো ও দুর্বল উভয় ধরনের কোম্পানির শেয়ারের ব্যাপক দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। ফলে বাজারে লেনদেনও কমে গেছে।
সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারে বড় ধরনের পতনের মতো কোনো মৌলিক কারণ নেই। সম্প্রতি ডিএসই ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির একটি তালিকা প্রকাশ করায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে এতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণ দেখছেন না তিনি। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের ভালো কোম্পানি বেছে নিয়ে সচেতনভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণে নতুন ও শক্তিশালী কোম্পানি তালিকাভুক্তি এবং বন্ড বাজারের উন্নয়ন প্রয়োজন।
অন্যদিকে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছেন। ফলে এ পতনকে স্বাভাবিক বাজার সংশোধন হিসেবে দেখা উচিত।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমতে শুরু করলে সূচকও নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দিনের শেষভাগে বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যাওয়ায় বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩১৯টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘এ’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে। এ শ্রেণিতে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের দর বাড়লেও ১৭১টির দর কমেছে। এছাড়া ‘বি’ ও ‘জেড’ শ্রেণির বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদরও কমেছে।
দরপতনের ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার ডিএসইতে মোট ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা কম। এর মাধ্যমে গত ২ জুনের পর প্রথমবারের মতো ডিএসইতে দৈনিক লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে এলো।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, যার ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, যেখানে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পশুখাদ্য কারখানার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, রবি আজিয়াটা, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ডোমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, এনসিসি ব্যাংক এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৬৭ পয়েন্ট কমেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।







