গত বছরের নভেম্বরে জাপানের ওসাকার কানসাই অঞ্চলে পানি ব্যবস্থা মেরামতের জন্য আনুমানিক ৫৬০ মিলিয়ন ইয়েন মূল্যের ২১ কেজি স্বর্ণের বার দান করেছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দাতা।
শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ওসাকার মেয়র হিদেয়ুকি ইয়োকোয়ামা বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের আবাসস্থল জাপানের ওসাকার কানসাই অঞ্চলে। এটি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর। কিন্তু জাপানের অনেক শহরের মতো, ওসাকার পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন পাইপগুলো পুরাতন হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে, যা সবার উদ্বেগের কারণ।
শহরের ওয়াটারওয়ার্কস ব্যুরো অনুসারে, ২০২৪ অর্থবছরে ওসাকা তার রাস্তার নিচে ৯০ টিরও বেশি পানির পাইপ লিক হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশাল এই স্বর্ণের অনুদান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইয়োকোয়ামা বলেন, “পুরাতন পানির পাইপগুলো মেরামত করার জন্য বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, একই রহস্যময় দাতা এর আগেও পৌর জলের কাজ করার জন্য নগদ ৫ লক্ষ ইয়েন দিয়েছিলেন।
স্বর্ণের এই বিশাল অনুদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শহরের ওয়াটারওয়ার্কস ব্যুরো বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পানির পাইপের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতসহ তারা এই অনুদানের সদ্ব্যবহার করবে।
স্থানীয় মিডিয়া অনুসারে, জাপানের ২০ শতাংশেরও বেশি পানির পাইপের ৪০ বছরের আইনি পরিষেবার সময়কাল পেরিয়ে গেছে। জাপানের শহরগুলোতে সিঙ্কহোলগুলোও ক্রমশ অকেজো হয়ে উঠেছে, যার বেশিরভাগ পয়ঃনিষ্কাশন পাইপলাইনের অবকাঠামোই পুরানো।
গত বছর, সাইতামা প্রিফেকচারের একটি বিশাল সিঙ্কহোলে একটি ট্রাকের ক্যাব তলিয়ে যায়, যার ফলে চালক নিহত হন। একটি ফেটে যাওয়া সিঙ্কহোলের কারণে এমনটা ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে জাপানি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু বাজেট সংকটের কারণে এই পাইপগুলো মেরামত করা কাজের অগ্রগতি হচ্ছিলো না।









