শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো দোল উৎসব। বেশ ক’দিন ধরেই দোল পূর্ণিমায় উৎসবের জন্য প্রস্তুতি ছিল শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের চা বাগান শ্রমিক, পূজা কমিটি ও এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে।
গতকাল (১৪ মার্চ) শুক্রবার শুক্লপক্ষের দোল পূর্ণিমায় মহাসমারোহে উদযাপন করে শেষ হলো দোল উৎসব।
এবার পঞ্চম বছরের মতো শ্রীমঙ্গলে সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল ‘সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ’ এর। উদযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সংগঠক পিয়াস দাশ জানান, সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মহাধুমধাম করে আমাদের দোল উৎসব সম্পন্ন করতে পেরেছি। পবিত্র মাহে রমজানে এই দোল পূর্ণিমার অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই শেষ করা হয়। সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, আনন্দঘন দোল উৎসব পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। এমন আয়োজন শুধু আনন্দই ছড়িয়ে দেয় না, বরং সমাজে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীর ঢল নেমেছিল সবুজবাগের দিকে। সিলেট বিভাগের মধ্যে সবুজবাগের উৎসবটি সবচেয়ে বড় দোল উৎসব এটি। উৎসবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় ছিল নগর সংকীর্তন, ধামাইল, নাচ-গান, হোলি খেলা আর ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা।
হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়, দোল বা হোলি অতীতের ত্রুটি শেষ করার এবং নিজেকে পরিত্রাণ দেওয়ার, পারস্পরিক দেখা করে দ্বন্দ্ব শেষ করার, ভুলে যাওয়ার এবং ক্ষমা করার একটি দিন। সেইসাথে হোলি নতুন বন্ধু তৈরি করারও একটি উৎসব। তাই তরুণদের বেশ আগ্রহ দোল উৎসব নিয়ে।
চা বাগান অঞ্চল শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকরা ফাগুয়াকে বরণ করে নিয়েছে যার যার সাধ্য অনুযাযী। রাধা-কৃষ্ণের পায়ে লালচে আবীর দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থী হয়েছেন। ফাল্গুন মাসে এই উৎসবটি হয় বলে একে ‘ফাগুয়া উৎসব’ বলা হয়। শ্রীমঙ্গলে জগন্নাথ আখড়ায়, জেটি রোডেও দোল উৎসব উদযাপিত হয়।
এদিকে, আজ শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগানে দুর্গা মন্দির মাঠে বড় আয়োজন হচ্ছে ফাগুয়া উৎসবের। উৎসব কমিটির সদস্য সন্দীপ তাঁতী জানান, রাজঘাটের নবীন-প্রবীণ সবাইকে নিয়ে আজ আমরা ফাগুয়া উৎসবে সামিল হবো।
কমলগঞ্জে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপ-পরিচালক প্রভাস চন্দ্র সিংহ জানান, কমলগঞ্জেও ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী হোলি উৎসব আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উদ্যোগে হোলি নৃত্য প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।








