বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডক্টর এম শমশের আলী মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)
রোববার (৩ আগস্ট) রাত ২ টায় অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি মারা যান। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
অধ্যাপক শমশের আলীর বড় ছেলে জেহান আলী জানান, বাদ জোহর ধানমন্ডি ৭ নম্বর বাইতুল আমান জামে মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তার মৃত্যুতে রোববার (৩ আগষ্ট) ছুটি ঘোষণা করেছে এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তার জানাযায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছে।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির প্রাক্তন সভাপতি শমশের আলী ১৯৩৭ সালের ২১ নভেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম শমশের আলী ১৯৬১ সালে ঢাকায় আনবিক শক্তি কমিশনে সায়েন্টিফিক অফিসার পদে যোগ দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি এ প্রতিষ্ঠানের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অসামান্য একাডেমিক ক্যারিয়ারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি প্রফেসর-এর সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি দুই যুগ এ বিভাগের নিয়মিত অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
বিজ্ঞানের জগতে খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব প্রফেসর শমশের আলী একাডেমি অব সায়েন্স, একাডেমি অব সায়েন্স অব দি ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স (প্রেসিডেন্ট: ২০০৪-২০১২) বিশ্বের এই তিনটি সায়েন্স একাডেমির ফেলাে। তিনি বাংলা একাডেমির একজন ফেলো ছিলেন।
বিজ্ঞানভাবনা প্রসারে সদা-উৎসাহী ড. শমশের আলী টানা এক যুগ বিটিভি-তে বিজ্ঞান বিচিত্রা ও নতুন দিগন্ত নামে দুটি নতুন ধারার শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ে সিরিজ লেকচার প্রদান করেন বিবিসি-তে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাঝে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্স ও ইতালির থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক অব সায়েন্টিফিক অর্গানাইজেশনের সম্মাননা।
কর্মজীবনে তিনি ভূষিত হয়েছেন বহু গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা ও পুরস্কারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হরিপ্রসন্ন রায় স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স স্বর্ণপদক, জগদীশ চন্দ্র বসু স্বর্ণপদক এর অন্যতম।
দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রথমসারির সায়েন্টিফিক জার্নালগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে তার অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা। এছাড়াও বিজ্ঞান, গণিত ও ইসলাম নিয়ে লিখেছেন বেশ কয়েকটি আলােচিত গ্রন্থ। আল্লামা শমশের আলী এমন একজন মানুষ-চেনা ছকের বাইরে এসে যিনি দেখতে শিখেছেন মানুষ ও প্রকৃতিকে। বন্ধু ও কাছের মানুষেরা তাকে A man with a large antenna বলে অভিহিত করেন। বিজ্ঞানের পাশাপাশি কবিতা, সংগীত, সাহিত্য ও ধর্ম তার বিশেষ আগ্রহের বিষয় ছিল।








