টরন্টো ফিল্ম ফোরামের আয়োজনে টরন্টোর ৩০০০ ড্যানফোর্থ এভিনিউ’র ‘মাল্টিকালচারাল ফিল্ম স্ক্রীনিং সেন্টার’ -এ গত শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা ইনাম আহমেদের ১০১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অভিনেতা ইনাম আহমেদ অভিনীত কয়েকটি চলচ্চিত্রের অংশ বিশেষ নিয়ে চলচ্চিত্রনির্মাতা এনায়েত করিম বাবুল সম্পাদিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। ৫০ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রে ইনাম আহমেদ উপস্থিত দর্শকদের সামনে অনেকটা মূর্তমান হয়ে উঠেন। প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনীর পর ইনাম আহমেদের জীবন ও কর্ম নিয়ে মূল আলোচনা করেন মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যকার আকতার হোসেন, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী সুলতানা হায়দার, সাংবাদিক ও লেখক সুব্রত নন্দী ও চলচ্চিত্র লেখক ও সমালোচক ইকবাল করিম হাসনু।
বক্তব্য রাখেন কানাডা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আমিন মিয়া, ব্যারিস্টার শামিম আরা, রাজনীতিবিদ মোহসীন ভূঁইয়া, সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর, আবৃত্তি শিল্পী হিমাদ্রী রয়, রাজনীতিবিদ ফায়জুল করিম, কবি রেজা অনিরুদ্ধ, টরন্টো বাংলা বইমেলার আহবায়ক সাদী আহমেদ, নাট্য অভিনেতা ম্যাক আজাদ, কবি জিন্না চৌধুরী, সংস্কৃতিসেবী এম এ কাদের মিলু, টরন্টো ফিল্ম ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ শাহনওয়াজ, সামাজিক সংগঠক শিবু চৌধুরী ও নাট্য নির্দেশক সুব্রত পুরু।
স্মরণ অনুষ্ঠানে অভিনেতা ইনাম আহমেদ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন টরন্টো প্রবাসী ইনাম আহমেদের কন্যা নারী উন্নয়ন কর্মী আসমা আহমেদ মাসুদ এবং ইনাম আহমেদের দৌহিত্র মাশরুর ইশরাক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর সময়ের কিছু অজানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এনায়েত করিম বাবুল। স্মরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিস রফিক।
বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডে নির্মিত প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্য কাহিনী চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়কারী ইনাম আহমেদ ১৯২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুচাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ মাত্র ৮ বছর বয়সে নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ইনাম আহমেদের অভিনয় জীবন শুরু হয়৷ ১৯৩১ সালে ভারতের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘আলম আরা’ দেখার পর তার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ জন্মে৷ তার বাবা তদানিন্তন পূর্ব বাংলার শিক্ষা পরিদর্শক ছিলেন। ইনাম আহমেদ কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বাটা সু কোম্পানিতে কয়েক বছর চাকুরী করেন।
১৯৪৩ সালে প্রেমেন্দ্র মিত্র পরিচালিত ‘সমাধান’ নামে কলকাতার একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবন শুরু হয়৷ রূপালী পর্দায় তখন তার নাম ছিল ‘অরুণ কুমার’৷
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ: নাচের পুতুল (১৯৭১), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪), শুভ দা (১৯৮৬), এখনও অনেক রাত (১৯৯৭), নিশান, গুনাহগার, আসামী হাজির, তুফান, পদ্মাবতী, নসীব, চন্দ্রনাথ, শিরী ফরহাদ, শুভ দা, গৃহ বিবাদ ইত্যাদি। ইনাম আহমেদ দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
এক সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘ঝিনুক’ এ তিনি ‘আমার শিল্পী জীবন’ শিরোনামে অত্যন্ত পাঠকপ্রিয় একটি ধারাবাহিক লেখা একটানা বহু বছর লিখে গেছেন।
ইনাম আহমেদ ২০০৩ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার সাত সন্তানের মধ্যে এক পুত্র মুক্তিযোদ্ধা ও আর্টিস্ট মারুফ আহমদ জার্মানী এবং কন্যা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আসমা আহমদ মাসুদ কানাডার টরন্টোতে বসবাস করছেন।









