ইরানের বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি প্রায় ২২ বছর পর প্রথমবারের মতো কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত তার নতুন ছবি ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ -এর প্রিমিয়ারে লালগালিচায় দেখা যায় এই প্রখ্যাত পরিচালককে।
তেহরান সরকার ১৫ বছর ধরে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সর্বশেষ তিনি কানে উপস্থিত ছিলেন ২০০৩ সালে। যখন তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘ক্রিমসন গোল্ড’ ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছিল।
৬৪ বছর বয়সী পানাহির সঙ্গে এবার কানে ছিলেন তার স্ত্রী, কন্যা ও ছবির প্রধান অভিনেতা বাহিদ মোবাস্সেরিসহ অন্যান্য কলাকুশলীরা।
২০১০ সালে ‘প্রথা বিরোধী প্রচারণা’র অভিযোগে ইরানের আদালত পানাহির ওপর ২০ বছরের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ ও বিদেশে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যদিও এখন তার বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় মামলা নেই এবং কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞাও নেই বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্রটির এক মুখপাত্র।
প্রিমিয়ারে দর্শকদের আবেগময় অভ্যর্থনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন পানাহি। চলচ্চিত্রটি উৎসর্গ করেন ইরানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সব নির্মাতা, বিশেষ করে সেইসব নারী পরিচালক ও অভিনেত্রীদের, যারা নারীর অধিকারের দাবিতে আন্দোলনকারী কর্মীদের পাশে ছিলেন।
‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ ছবিতে দেখা যায় বাহিদ নামের এক ব্যক্তিকে, যিনি একদিন অপহরণ করেন একটি কৃত্রিম পা-ওয়ালা লোককে, যিনি দেখতে হুবহু তার পুরনো নির্যাতনকারীর মতো। অতীতের সেই নির্যাতনের প্রমাণ পেতে তিনি অন্য বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে চান কী করবেন এই ব্যক্তির সঙ্গে।
এই ছবিটি যেন শুধুই একটি দুর্ঘটনা নয়—বরং প্রতিরোধ, স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের এক গভীর মানবিক দলিল।

জাফর পানাহি এর আগে ১৯৯৫ সালে ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’ চলচ্চিত্রের জন্য কানের ক্যামেরা দ’ওর এবং ২০১৫ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ট্যাক্সি’ ছবির জন্য গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও তাকে এখনও গোপনে এবং আইনের বাইরে থেকেই সিনেমা নির্মাণ করতে হয়।








