ত্রিভুজ প্রেমের বলি কলেজছাত্র বিপুল

Six young men, including police officers, standing against a plain wall, some looking down, in a detention setting. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
দিনাজপুরে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে পরিকল্পিতভাবে কলেজছাত্র শাহারিন আলম বিপুলকে খুন করা হয়েছে। ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয় বিপুল। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ৯ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ।
বিপুল হত্যার আসামিরা হলো: দিনাজপুর সদর উপজেলার শালকী বোয়ালমারী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (২৫), উপশহরের ৬ নং ব্লকের পুরাতন পাওয়ার হাউজ এলাকার শাকিব শাহরিয়ের (২০), সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আশরাফুল হোসেন মিলন (১৯) ও উপশহরের হাউজিং মোড় ৭ নং ব্লকের আসিফ মাহমুদ হৃদয় (২০)।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান: দিনাজপুর দক্ষিণ কোতয়ালীর আস্করপুর ইউপির দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে ও দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজ প্রথম বর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্র শাহারিন আলম বিপুল (১৮)কে ফেসবুকে ফেক আইডির মাধ্যমে গত ৪ মার্চ বাড়ি থেকে ডেকে আনে আসামিরা। সেইদিন থেকে নিখোঁজ ছিল বিপুল।
বিপুলের নিখোঁজের বিষয়ে তার ভাই শাহরিয়ার আলম ৫ মার্চ কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) নথিভুক্ত করেন।
৬ মার্চ সোমবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে দিনাজপুর স্টেডিয়ামের প্রথম গেটের গ্যালারির ডানদিকে গ্যালারির নিচে ময়লার স্তুপ থেকে অর্ধগলিত একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি বিপুলের বলে তা শনাক্ত করে নিহত বিপুলের পরিবার।
সুরতহাল প্রস্তুতকালে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ধরে নিয়ে দ্রত ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়। একই দিন ভিকটিমের বড় ভাই শাহারিয়ার আলম বাদী হয়ে ১ জনকে এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এজাহারনামীয়সহ অন্য আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়। অভিযান টিমের ধারাবাহিক কার্যক্রম এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি দেলোয়ারকে গ্রেপ্তারের পর কলেজ ছাত্র বিপুল হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ জানান: ‘‘পুরভী (ছদ্ম নাম) নামের এক মেয়েকে পছন্দ করে আসামী দেলোয়ার হোসেন। কিছুদিন প্রেমের সম্পর্কের পর ভিকটিম বিপুলের সাথে পুরভীর সখ্যতা হয়। দেলোয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছিল না। সে বিপুলকে সরাসরি টার্গেট করে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। প্রথমে তারা বিপুলকে পর্যবেক্ষণ শুরু করে বিপুলের ফেসবুক হতে তার ছবি তোলার শখটি চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। আর এটাকেই তারা কৌশল হিসেবে বেছে নেয়।
গত ১ মার্চ SAKIB AHMED SUVO নামে ভুয়া ফেইসবুক একাউন্ট খুলে ভিকটিমের সাথে চ্যাটিং শুরু করে। ছবি তোলার বিষয়ে মেসেঞ্জারে মেসেজ আদান প্রদান চলতে থাকার একপর্যায়ে ভিকটিমকে ০৬ (ছয়) দিনের জন্য ক্যামেরা ধার দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। মাত্র ৩ দিনের কথপোকথনে অপরাধীরা ভিকটিমের মনে বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হয়। তাদের কথাবার্তা বিশ্বাস করে ভিকটিম তাদের ফাঁদে পা দেয়।
তাকে বলা হয়, জেলা স্কুলে অধ্যায়নরত শামীম রেজা সাগর (ছদ্ম নাম) নামে একজন ৪ মার্চ সকাল ৯টার সময় স্টেডিয়ামের ১নং গেটে ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষা করবে। ঘটনাস্থলে আসার জন্য ১নং আসামি দেলোয়ার ভিকটিমকে ভাড়া বাবদ ১০০ টাকা বিকাশ করে পাঠায়।
ভিকটিম সরল বিশ্বাসে স্টেডিয়ামের ১নং গেটে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দেলোয়ার, শাকিল, সাগর এবং আসিফসহ অজ্ঞাতনামা ১/২ জন সহযোগী আসামী ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। ভিকটিম প্রতিবাদ জানালে তর্কাতর্কি শুরু হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ভিকটিমের মাথার পিছনে ও গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামীরা। এরপর লাশ ময়লা আবর্জনা দিয়ে ঢেকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। একই সাথে তারা ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে তাদের সাথে হওয়া চ্যাটিং ডিলিট করে উক্ত SAKIB AHMED SUVO নামীয় ফেসবুক একাউন্ট ডি-এক্টিভেট করে দেয়।’’
পুলিশ সুপার আরও জানান: খুনিরা মেসেঞ্জার ব্যবহার করে অত্যন্ত কৌশলের আশ্রয় নিলেও অভিযান দলের কৌশলের কাছে পরাস্থ হতে বাধ্য হয়। গ্রেপ্তারদের কাছে একটি আর ১৫ ১৫৫ সিসি মেট ব্লাক+কালো রংয়ের মোটরসাইকেল, একটি ফোরবি ১৬০ সিসিমোটর সাইকেল ও ৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।






