যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানের মিডটাউনে একটি বহুতল ভবনে বন্দুক হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি হলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) একজন সাহসী কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম (৩৬)।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ভোরে মিডটাউন ম্যানহাটনের একটি অফিস ভবনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে তিনি নিহত হন। অপরদিকে ওই বন্দুকধারী লাস ভেগাসের বাসিন্দা। ২৭ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারীর নাম শেন তামুরা। তার মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার ইতিহাস রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, দিদারুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আসা একজন অভিবাসী। যিনি নিউইয়র্ককে ভালোবাসতেন এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন।
অ্যাডামস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দিদারুল এই শহরকে ভালোবাসতেন এবং আমরা যাদের সাথে কথা বলেছি, তারা সকলেই বলেছেন, তিনি একজন ঈশ্বরে বিশ্বাসী এবং একজন ধার্মিক ব্যক্তির মতো জীবনযাপনে করতেন। তিনি শহরটির মূল কথাই প্রতিফলিত করেন। তিনি কেবল তার পোশাকেই নয়, বরং তার শহরকে ভালোবাসার চেতনা এবং শক্তিতেও একজন সত্যিকারের নীল নিউইয়র্কবাসী ছিলেন।
তিনি জানান, আজ ভোরে দিদারুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি যে একজন বীর এবং তার আত্মত্যাগের জন্য প্রশংসাও করছেন।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, দিদারুল পুলিশ বিভাগের সেরা প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি। আজ যখন তার জীবন মর্মান্তিকভাবে শেষ হয়ে গেল, তখন তিনি নিউ ইয়র্কবাসীকে বিপদ থেকে রক্ষা করে গেলেন। এই অকল্পনীয় যন্ত্রণার সময়ে তার প্রার্থনা করি। আমরা তার উত্তরাধিকারকে চিরকাল সম্মান জানাব।
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিসচ বলেন, দিদারুল সাড়ে তিন বছর ধরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সাথে আছেন এবং তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলে রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, তার স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের জন্য আট মাসের গর্ভবতী।
দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, দিদারুল ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
ম্যানহাটানের মিডটাউনের ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। তাদের পরিবারকে না জানানো পর্যন্ত পুলিশ তাদের পরিচয় গোপন রেখেছে। গুলিবর্ষণে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার চিকিৎসা চলছে।
সন্দেহভাজন বন্দুকধারী প্রথমে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে থ্রি ফোর ফাইভ পার্ক অ্যাভিনিউয়ের লবিতে একজন নিউ ইয়র্ক পুলিশ অফিসারের সাথে গুলি বিনিময় করে। এরপর তিনি ৩৩তম তলায় উঠে যান এরপর সম্ভবত ভবনের ৩২তম তলায়, যার ফলে এলাকায় লকডাউন শুরু হয়। তবে, এই হামলার কারণ সর্ম্পকে জানা যায়নি।








