একটি নারিকেল গাছ, অথচ শাখা একটি বা দুটি নয় একেবারে সাতটি। প্রকৃতির এই বিরল বিস্ময় এখন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গাছটি এক ঝলক দেখতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার পীরগঞ্জ বনিক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা এই ব্যতিক্রমী নারিকেল গাছটি দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন কয়েকটি গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়, সবকটি শাখার গোড়া একই।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ইদরিস আলী গাছটি রোপণ করেন। প্রথমদিকে এটি ছিল সাধারণ একটি নারিকেল গাছ। পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাটি থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ফুট ওপরে মূল কাণ্ডটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এরপর সেই অংশ থেকেই ধীরে ধীরে আরও শাখা গজায়। বর্তমানে গাছটির সাতটি প্রধান শাখা রয়েছে। যদিও প্রাকৃতিক কারণে এর দুটি শাখা ভেঙে গেছে, তবুও বাকি সাতটি শাখা এখনও সবল ও সবুজ।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, এমন নারিকেল গাছ তারা আর কোথাও দেখেননি। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গাছটি দেখতে বিদ্যালয়ে আসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিরল এই গাছটি শুধু তাদের এলাকার নয়, পুরো জেলার একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তাই সরকারি উদ্যোগে গাছটি সংরক্ষণ করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
পীরগঞ্জ বনিক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুর ইসলাম বলেন, “চার দশক আগে আমাদের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ইদরিস আলী এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। এটি এখন আমাদের বিদ্যালয়ের অন্যতম ঐতিহ্য। গাছটি সংরক্ষণ ও টিকিয়ে রাখতে আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য বিস্ময়ের মধ্যে এই সাত শাখার নারিকেল গাছটি যেন এক অনন্য উদাহরণ। শুধু পীরগঞ্জ নয়, বিরল এই গাছটি এখন পুরো ঠাকুরগাঁও জেলার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।







