আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে রাজকীয় বিদায় নিয়েছেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। ৩৬ বর্ষী তারকা ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৫ ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ৩১টি। আকস্মিকভাবে তার জাতীয় দলে আবারো ফেরার গুঞ্জন চলছে। সেই পালে হাওয়া লাগিয়েছেন ডি মারিয়ার স্ত্রী জর্জেলিনা কার্দোসো।
সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় চিলির বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। ডি মারিয়া খেলাটি দেখতে মাঠে উপস্থিত থাকবেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মনুমেন্টালে তাকে শ্রদ্ধা জানাবে। এই ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটের জন্য ডি মারিয়ার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে তার স্ত্রী এক রেডিও চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন।
শুনেছি তারা আর্জেন্টিনায় ওর বিদায়ী ম্যাচটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। আমি জানি না সে চিলির বিপক্ষে ১১ মিনিট (ডি মারিয়ার জার্সি নম্বর ১১) খেলবে কিনা। তবে চিন্তাটা দারুণ এবং যারা তাকে দেখতে চায়, এটা তাদের প্রাপ্য। যদি এমনটা হয়, তবে সে আনন্দিত হবে। কারণ মানুষেরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চায় এবং সে এটার যোগ্য।
ডি মারিয়া কাতার বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসর নিতে চেয়েছিলেন বলেও জানান জর্জেলিনা। বললেন, যখন আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম সে বলেছিল এটাই সময়। তার সতীর্থরা ওকে বলেছিল, এখন অবসরের সময় নয়। তার নিজেকে উপভোগ করতে হবে। এ কারণেই কোপা আমেরিকা পর্যন্ত থেকেছে।আমার দিক থেকে বললে সে নিখুঁতভাবে কাজটা করেছেন। আমি চাই না সে কখনো অবসর গ্রহণ করুক। তবে ওর সিদ্ধান্তটা একদম ঠিক।
অবসরের পর সতীর্থ ও কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে ডি মারিয়া ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন। কোচ চেয়েছিলেন, ২০২৫ সালে স্পেন-আর্জেন্টিনার লা ফিনালিস্সিমা খেলে অবসরে যাক ডি মারিয়া। স্কালোনির সঙ্গে আলাপচারিতা অবশ্য ডি মারিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক কিছু পাওয়া যায়নি।
আবারও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার বিষয়টি নিয়ে ডি মারিয়া জানিছেন, ‘স্কালোনি জিজ্ঞেস করেছিলেন আরেকবার মাঠে নামব কি না? দেশের মানুষের জন্য, যাতে তারা বিদায় জানাতে পারে।’
‘‘তখন আমি তাকে বললাম, ‘আমি ব্রাজিলকে মারাকানায় হারিয়েছি, সবই জিতেছি আমি। এরপর কোপায় দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলাম। এখন যেভাবে বিদায় বলেছি, আমার মতে এটা সবচেয়ে সেরা। আমি আবারও আসার কথা জানিয়েছি, তবে খেলার জন্য নয়। শেষপর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে আমার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, বিদায় পেয়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ এক রাত কেটেছে।’’








