দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ভারতে। আর সেই আন্দোলনের ঢেউ মুম্বাইতে আছড়ে পড়তেই আলোচনায় ‘ধুরন্ধর’ খ্যাত অভিনেত্রী আয়েশা খান!
দিল্লিতে ছাত্রদের উপর পুলিশের আক্রমণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সরব হয় মুম্বাইবাসী। মঙ্গলবারের ছাত্র বিক্ষোভে সমর্থন জানাতে গিয়ে পুলিশ হাতে আটক হন আয়েশা খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন দাবিই করেছেন তিনি। এই সংক্রান্ত কিছু ভিডিওও সামনে এসেছে।
শুধু তাই নয়, পুলিশের ভ্যানের ভেতর থেকে ভিডিও প্রকাশ করে পুরো ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একাধিক ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন আয়েশা। সেখানে দেখা যায়, তিনি একটি পুলিশ ভ্যানের ভেতরে বসে রয়েছেন। ভিডিওতে স্পষ্টতই বিচলিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার হাত কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। একটা কথাও বলিনি, কোনো প্রতিবাদও শুরু করিনি। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম, কারণ আমার ভাই এবং কয়েকজন বন্ধু আগে থেকেই আটক হয়েছিল।”
এরপর ক্যামেরা ঘুরিয়ে তিনি দেখান, একই ভ্যানে আরও অনেককে রাখা হয়েছে। আয়েশার অভিযোগ, কেন আটক করা হয়েছে- এ বিষয়ে কেউ কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছিল না।
আরেকটি পোস্টে পুলিশের কয়েকজন সদস্যের ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আমাকে আটক করা হয়েছে। জবাবদিহি কোথায়?”
পরে আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাঁকে ভ্যানে তোলার চেষ্টা করছেন। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে আয়েশা লেখেন, “দুঃখজনকভাবে আমাকে ভ্যানে তুলতে চার থেকে পাঁচজন নারী পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হলো। কিন্তু আমার প্রশ্ন একই- কেন? আমি কি কোনো স্লোগান দিয়েছি? কোনো কথাও তো বলিনি। শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্যই আমাকে আটক করা হলো?”
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, পুলিশ ভ্যানে থাকা কয়েকজন জানতে চাইছেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে আয়েশার দাবি, পুলিশ সে প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি।
এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সমর্থিত ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন আয়েশা খান। জনপ্রিয় পাপারাজ্জি ও সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, গ্ল্যামার, সৌন্দর্য আর বিতর্কের খবরের ভিড়ে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো যেন আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। তার মতে, ছাত্রদের আন্দোলনের মতো বিষয়গুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনা উচিত।
আয়েশার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সমর্থকরা ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করলেও, এ বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়া







