ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত করেছেন তাসকিন আহমেদ। বিপিএলের ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারের পাশাপাশি সবধরনের টি-টুয়েন্টিতেও শীর্ষদের কাতারে এখন টাইগার পেসার। অতুলনীয় সাফল্য ছেলে তাসফিনকে উৎসর্গ করেছেন তাসকিন।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। তার আলো ছড়ানোর দিনে ঢাকাকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে দুর্বার রাজশাহী। ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগার তারকা।
বলেন, ‘আসলে দিনশেষে যখন ভালো করি বা উইকেট পাই আমার ছেলে আমার বাবা এরা অনেক খুশি হয়। অবশ্যই ওদের সাপোর্টটাও অনুপ্রেরণার। কারণ যেদিন ভালো বোলিং করতে পারি না সেদিন তাসফিন অনেক মন খারাপ করে। আজকে শিওর ও অনেক খুশি। এটা তাসফিনের জন্যই।’
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ভালো করার কথা আগেই ভেবেছেন তাসকিন। বললেন, ‘ভাবছি। আসলে না ভাবলে হতো না। হ্যাঁ, উইকেট একটু ভাগ্যেরও ফেভার হইতে হয়, কিন্তু আমি খুশি, বোলিংয়ে যেটা করতে চাচ্ছি সেটা সফল হচ্ছে। আসলে ভালো বোলিং করতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট অনেক সময় দুইটা কম হয়, দুইটা বেশি হয়।’
‘আজকে একটা মজার বিষয় ছিল যে, আমাদের টিমের মেসয়োর আনোয়ার বলতেছিল যে ভাইয়া তুমি আজকে চার উইকেট পাবা। চাচ্ছিস যেহেতু বেশিই চা, ৮ উইকেটও তো হইতে পারে। ৭ উইকেট পেয়ে গেছি আজকে। আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছি এবং জিতছি। ভালো লাগছে।’
ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে শুভম রাঞ্জানেকে ফেরানোর পর শেষ বলে অষ্টম উইকেটের সুযোগ ছিল তাসকিনের। টাইগার পেসার শেষ বলে উইকেটের লোভ করেননি। বললেন, ‘না, আসলে লোভে যাই নাই। বেশি লোভে গেলে দেখা গেল হাফ ভলি হতে পারত। তখন বলছি একেকটা ওয়ান বোলারের টাইমে আমি ক্লিয়ার ছিলাম। সিচুয়েশন অনুযায়ী কী করা দরকার এবং সেটা করতে পারছি। ভালো লাগছে যে, যখনই ক্যাপ্টেন আমাকে বিশ্বাস করে নিয়ে এসেছে, ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারছি।’
অভাবনীয় সাফল্যে যেকোনো ক্রিকেটারেরই উৎফুল্ল হওয়া স্বাভাবিক। তাসকিনও ব্যতিক্রম নন। বললেন, আসলে ফাইফার তো যেকোনো ফরম্যাটে অনেক স্পেশাল। কারণ অনেকবার তিন উইকেট, চার উইকেট পাইছি, কিন্তু উইকেটের সঙ্গে ভাগ্যও লাগে পাঁচটা পেতে। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। যেহেতু বাংলাদেশের ছেলে বিপিএলের ইতিহাসে আমার একটা নাম থাকবে খেলা ছাড়ার পরও। এটা আমার জন্য একটা প্রাউড মোমেন্ট।’
তাসকিনের ১৯ রানে ৭ উইকেট বিপিএলের ইতিহাসে রেকর্ড। ২০২০ আসরে মোহাম্মদ আমির খুলনার হয়ে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে ১৭ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ডটি দখলে রেখেছিলেন।
টি-টুয়েন্টিতে সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭ উইকেট শিকারের ঘটনায় এটি তৃতীয়। তাসকিনের আগে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার সিরাজুল ইদ্রিস চীনের বিপক্ষে ৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নেন। ২০১৯ সালে ইংলিশ ভাইটালিটি ব্লাস্টে লিচেস্টারশায়ারের হয়ে বার্মিংহ্যাম বিয়ারসের বিপক্ষে ১৮ রানে ৭ উইকেট নেন নেদারল্যান্ডসের কলিন একেরম্যান।







