খাদান, ধূমকেতু থেকে সম্প্রতি রঘু ডাকাত-এর প্রচারে পুরো টিম নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ চষে বেড়াচ্ছেন কলকাতার সুপারস্টার দেব। নাম উল্লেখ না করে বললেও সিনেমার প্রচারণায় দেবের এভাবে ছুটে বেড়ানোকে ভালো চোখে দেখছেন না পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা ও সিরিয়ালের সুপরিচিত অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলছেন, ‘সিনেমার চেয়ে প্রচারের জৌলুসই’ যেন হয়ে উঠেছে মূল আকর্ষণ। পাশাপাশি তিনি, প্রচারণাকে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবন জুড়ে রয়েছে এক অনন্য স্বাতন্ত্র্য। তিনি শুধু অভিনেতা নন, একজন চিন্তাশীল শিল্পী, যিনি বারবার সাহসের সঙ্গে নিজের মতামত প্রকাশ করেন সোশ্যাল মিডিয়াতে।
সম্প্রতি নিজের আইডিতে একটি পোস্টে ভাস্কর লেখেন,“ছোটবেলায় সিনেমার পোকা ছিলাম। কখন কোন হলে কোন সিনেমা আসছে, সব মুখস্ত ছিল। কবে কোনটা দেখব, মনে মনে ঠিক করা থাকত। কিন্ত কোনও দিন সেই সিনেমার অভিনেতাতের প্রচারে আসতে দেখিনি। সেই স্বপ্ন…সেই মানুষ…সেই চাওয়া পাওয়াগুলোকে সিনেমা হলে গিয়েই গোগ্রাসে গিলতাম..তারা ছিল কল্পনার মানুষ…যাদের দেখা যায় না….ছোঁয়া যায় না।”
এরপরেই তোপ দাগেন বর্তমান সময়ের প্রচার কৌশল নিয়ে! এই সময়ে সিনেমার প্রচার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ভাস্কর লিখেছেন, “এখন একটা নতুন ট্রেন্ড এসেছে, যার নাম প্রমোশন (নাকি বিনে পয়সার ফাংশন) যেখানে ছবি আসার আগে সেই ছবির সব অভিনেতারা জনগণের কাছে গিয়ে ভিক্ষা চাইছে (হ্যাঁ… ভিক্ষাই বলছি) … যে ছবিটা দেখুন… আর কিছু অশিক্ষিত (হ্যাঁ…অশিক্ষিতই বলছি) মানুষও সেই সব দেখছে .. কেউ নাচছে… কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ছে… কেউ আবার যা নয় তাই করছে।”
আরও ক্ষোভ ঝেড়ে ভাস্কর বন্ধ্যোপাধ্যায় লেখেন, “সত্যিই লজ্জা করে ভাবতে যে, একটা চলচ্চিত্র চালাতে দর্শক আনতে এই ভাবে তাদের পায়ে পড়তে হবে। আগে তো এটা করতে হতো না। ছবি চলতো নিজ গুণে। মানুষ ভালোবেসে ছবি দেখতো। ভাবতে ঘেন্না করে বড় বড় (তথাকথিত) শিল্পীরা এই জোয়ার গা ভাসাচ্ছেন।”
সেই সঙ্গে ভাস্কর এই কথাগুলো সম্পূর্ণ নিজের মতামত উল্লেখ করে বলেছেন, “ভালো ছবি হলে এমনিই চলবে, তার জন্য আলাদা করে প্রচারের প্রয়োজন নেই।”
ভাস্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়ের দেয়া এই পোস্টের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য চোখে পড়েছে। সুত্রিশা নামে একজন ভাস্করের এই পোস্টে লিখেছেন, আশ্চর্য! যতদূর মনে পড়ে আপনার সিনেমার প্রোমোশনও সল্টলেকে আরডিবি মলের সামনে পরিচালক এবং নায়িকারা মিলে নাচতে নাচতে করেছিলেন (নাকি বিনিপয়সার ফাংশন)। তখন কিছু বলেননি কেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? ছবিতে তো আপনিও ছিলেন। সেই ছবি, প্রমোশনও কি তাহলে ‘অশিক্ষিত’ মানুষরাই দেখেছে? শুধু অন্যের ছবির সময় এই কন্ট্রোভার্সিয়াল কথাবার্তা বলেন কেন?
সূর্য দাস নামে আরেকজন লেখেন, যুগ পাল্টেছে। আগে মানুষের কাছে বিনোদন বলতে শুধু সিনেমা ছিল। এখন মানুষের কাছে অনেক কিছু আছে বিনোদনের জন্য। তাই সিনেমা বানালে হবে না। আজকের দিনে মার্কেটিংও চাই। এতো সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, কয়েকটি সিনেমা ভালো চলছে! আজকে হলিউড, বলিউড, সাউথ সব জায়গায় প্রমোশন হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। নাহলে হারিয়ে যেতে হবে।
সুজয় কর লেখেন, ভাস্কর বাবু আপনার অবস্থা এখন নোকিয়া ফোনের মতো, নিজেকে আপডেট করতে না পারলে কী অবস্থা হয় দেখছেন তো! নোকিয়া ফোন বাজার থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে, আপনার অবস্থাও ঠিক এমনই। শুধু ভালো ফিচার্স থাকলেই হয় না, মার্কেটিং তাও জানতে হয় বুঝলেন, আপনি নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন আশা করি বুঝতে পারবেন।







