ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেড়েছে ডেঙ্গুবাহী মশার উপদ্রব। বিশেষজ্ঞরা ফ্রান্স, স্পেন এবং গ্রিসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৩টি দেশে এই মশার সন্ধান পেয়েছেন। সতর্ক থাকতে রাতে মশারি ব্যবহার ও জমে থাকা পানি পরিষ্কারের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ‘টাইগার মসকিউটো’ নামের একটি বিশেষ প্রজাতির মশার বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি)।
‘টাইগার মসকিউটোকে’ বিশ্বের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রজাতির মশা বলে মনে করা হয়। এটি এখন দক্ষিণ ইউরোপে তাদের আবাসস্থল থেকে পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইসিডিসি সতর্ক করেছে যে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ফলে ইউরোপে এই ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে। বাগান বা বারান্দায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং রাতে মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
ইসিডিসি জানিয়েছে, এটি অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইতালি, মাল্টা, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া এবং স্পেনে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, চেকিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং স্লোভাকিয়াতেও এদের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে।
ইসিডিসি’র পরিচালক আন্দ্রেয়া অ্যামন বলেছেন, ইউরোপ ইতিমধ্যেই দেখছে যে, কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন আক্রমণাত্মক মশার জন্য আরও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে। এতে মশাগুলো নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং ডেঙ্গুর মতো রোগে আরও বেশি লোককে সংক্রামিত করছে।
‘টাইগার মসকিউটো’ ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া এবং জিকা ভাইরাসের মতো রোগ বহন করে। এতদিন সাধারণত শুধুমাত্র আফ্রিকা, এশিয়া এবং আমেরিকার কিছু অংশে এর উপস্থিতি ছিল। এছাড়াও ‘এডিস ইজিপ্টি’ নামের আরেক ধরনের মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে সাইপ্রাসে। এই মশা ‘ইয়োলো ফিভারের’ অন্যতম বাহক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইউরোপের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








