মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনে চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে মুদ্রার অপর পিঠ দেখল টিম টাইগার্স। বড় সংগ্রহের আভাস দিয়ে চারশ পেরিয়ে থামে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পরে বল হাতেও সুবিধা করতে পারেননি তাসকিন-রানারা। অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইসের দুর্দান্ত ঝলকে দ্বিতীয় দিন নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।
শুক্রবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের কিছু সময় পর্যন্ত ব্যাটিং করে থেমে যায় স্বাগতিক দল। প্রথম ইনিংসে ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ রানে অলআউট হয় টিম টাইগার্স। জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলেছে পাকিস্তান। ২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে ব্যাটে নামবে তারা। আজান ৮৫ রানে এবং আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭ রানে দিনের খেলা শুরু করবেন।
৪১৩ রান সামনে রেখে নেমে ২৩ রানে জীবন পান ইমাম উল হক। ইবাদত হোসেনের অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেন্থের ডেলিভারিতে পাকিস্তান ওপেনার ড্রাইভ খেলার চেষ্টা করেন। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল তৃতীয় স্লিপে উড়ে যায়। ফিল্ডার মাহমুদুল হাসান জয় বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ডান হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করলেও তালুতে জমাতে পারেননি।
খানিক পর নাহিদ রানার বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়ে বেঁচে যান ইমাম। অফ স্টাম্পের উপর দ্রুতগতির খাটো লেন্থের ডেলিভারি কোনাকুনিভাবে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ইমাম গতির কাছে পরাস্ত হন। ব্যাকফুটে রক্ষণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় বল পেছনের প্যাডে আঘাত করে বল। বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ইমাম। দেখা যায় অফস্টাম্প না ছুঁয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল বল। ২৪ রানে বেঁচে যান এ ওপেনার।
এরপর ৬৫ বলে ফিফটি তোলেন আজান। টেস্টে অভিষেক ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরি বাঁহাতি ব্যাটারের। খানিক পর ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। আজান ও ইমাম উদ্বোধনীতে ১০৬ রান তোলেন। ২২তম ওভারে ইমামকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্পিনারের বল সোজা ভেতরে ঢুকে ব্যাটের ভেতরের কানা ফাঁকি দিয়ে ইমামের সামনের প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নেন ইমাম। ট্র্যাকারে দেখা যায় বল স্টাম্পে লাগছে। ৬ চারে ৭২ বলে ৪৫ রানে সাজঘরে ফেরেন অতিথি ওপেনার।
শেষ বিকেলে পাকিস্তান যখন ১৬৬ রান, ক্যাচ তুলে জীবন পান আবদুল্লাহ ফজল। অফ-স্টাম্পের বেশ বাইরে বল করেন তাসকিন। ফজল খোঁচা দিলে ব্যাটের বাইরের দিকের কানায় লেগে গালিতে থাকা সাদমান ইসলাম সুযোগ হাতছাড়া করেন। ২৮ রানে জীবন পান ফজল।
দ্বিতীয় উইকেটে আজান ও আব্দুল্লাহ মিলে ৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন। আজান ১২ চারে ১৩৩ বলে ৮৫ রান এবং ৭৮ বলে ৬ চারে ৩৭ রানে অপরাজিত আছেন আব্দুল্লাহ।
বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র উইকেটটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
শুক্রবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটে নেমে ৪ উইকেটে ৩০১ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির খানিক পর গুটিয়ে যাওয়ার আগে আরও ১১২ রান যোগ করে হারায় বাকি ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪১৩ রান।
মুশফিকুর রহিম ৪৮ রানে এবং লিটন দাস ৮ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন। প্রথম সেশনে ৭৯ রান যোগ করে ৩ ব্যাটার হারায় স্বাগতিকরা। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৯ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৮০ রান। বিরতির পর ৮.১ ওভার ব্যাটিং করে ৩৩ রান যোগ করে থামে ইনিংস।
শনিবার সকালে ৩৯তম জন্মদিনে টেস্ট মেজাজে খেলে ১১৪ বলে ফিফটির দেখা পান মুশফিক। দিনের ১২তম ওভারে লিটনের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৯৬.৪ ওভারে ৩৩৮ রানে উইকেট বিলিয়ে আসেন লিটন। মোহাম্মাদ আব্বাসের অফ-স্টাম্পের বাইরে কিছুটা শর্ট লেন্থের ডেলিভারি পিচে পড়ে একটু ধীর হয়েছিল। লিটন পুল শট খেলার চেষ্টা করেন। মিডঅনে টাইমিং মিস করায় বদলি ফিল্ডার আমাদ বাট বাঁদিকে সরে গিয়ে সহজে বল তালুবন্দি করেন। ৩৩ রানে থামেন লিটন।
১০০.৪ ওভারে দলীয় ৩৫৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় টিম টাইগার্স। মোহাম্মাদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের খাটো লেন্থের ডেলিভারিতে মিরাজ কিছুটা উপরে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ইমাম বল তালুবন্দি করেন। ১০ রান করেন টাইগার সহ-অধিনায়ক।
মুশফিককে খানিক সঙ্গ দিয়ে তাইজুল ১৭ রানে বিদায় নেন। আব্বাসের অফ-স্টাম্পের উপরের বাউন্সারে তিনি হুকের চেষ্টা করেন, বল ব্যাটের উপরের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের সহজ ক্যাচ হয়। ৩৭৮ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইবাদতকে নিয়ে সেশন শেষ করেন মুশফিক।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর ৩৮০ রানে শাহিন আফ্রিদির দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হন মুশফিক। শেষ মুহূর্তে ফুল লেন্থের বল ভেতরে ঢুকে গেলে তার ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। অভিজ্ঞ ব্যাটার এগিয়ে এসে অন দ্য রাইজ ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। ভুল লাইনে ব্যাট চালানোয় ফাঁক গলে বল অফ স্টাম্প উপড়ে দেয়। ৮ চারে ১৭৯ বলে ৭১ রান করে যান টাইগার কিংবদন্তি।
খানিক পর মোহাম্মদ আব্বাসের পঞ্চম শিকার হন ইবাদত হোসেন। তার মিডলস্টাম্পে করা বল ব্যাটের উপরের অংশে লেগে রিজওয়ানের গ্লাভসে চলে যায়। ৩৮৪ রানে নবম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দশম উইকেটে তাসকিন ও নাহিদ রানা মিলে ৪০০ রান পার করে নেন। ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
নাহিদ রানা ও তাসকিন মিলে যোগ করেন ২৯ রান। শাহিন আফ্রিদির বলে দ্বিতীয় স্লিপে সৌদ শাকিলের দারুণ ক্যাচে জুটি ভাঙে। তাসকিন ৩ চার ও এক ছক্কায় ১৯ বলে ২৮ রান করে আউট হন। নাহিদ রানা ২৩ বলে ৪ রান করেন।
প্রথমদিনে সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রান করেন অধিনায়ক। ১০ চারে ২০০ বলে ৯১ রান করেন মুমিনুল হক। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ১৩ এবং মাহমুদুল হাসান জয় ৮ রান করে আউট হন।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি ও নোমান আলি একটি করে উইকেট নেন।







