এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এবং অন্যান্য রোগীতে আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের একই ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের আশঙ্কায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও লিফট দীর্ঘদিন অচল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
হাসপাতালটিতে অবকাঠামো, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট চরম আকার ধারণ করায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগী
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, আঘাতপ্রাপ্ত এবং অপারেশনের বিভিন্ন রোগী একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বেড ও ফ্লোরে ভর্তি রোগীদের পাশে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। ওয়ার্ডের বাথরুমগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত ভয়াবহ।
এ ছাড়া হাসপাতালের ছয় তলা ভবনের একমাত্র লিফটটি অধিকাংশ সময় বিকল থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে। সিঁড়ির পাশেও জমে থাকা পানির স্থায়ী দুর্গন্ধে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
রোগী ও স্বজনরা বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর সঙ্গে অন্য রোগীদের রাখায় আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। ময়লা-আবর্জনায় ভরা পরিবেশে কীভাবে সুস্থ হবো? লিফট নেই, রোগীদের সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। সার্বিকভাবে চিকিৎসা সেবার মান খুবই খারাপ।”
জনবল ঘাটতি চরমে
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও এটি এখনো ১৫০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ১,২০০ রোগী এবং ওয়ার্ডে প্রায় ৬০০ রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালে ১৯৮টি সেবিকা পদের মধ্যে ৬৮টি এখনো শূন্য। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যাতেও ঘাটতি রয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ফেনীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৭২ জন। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২ জন। জেলায় ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ২,৫০১টি কিট মজুত রয়েছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জনবল ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ না থাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহী উদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় চাপ বেড়েছে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে—মশারি ব্যবহার ও পানি জমে থাকা জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় থাকা ডেঙ্গু কর্নার দ্রুতই ৫ম তলায় স্থানান্তর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংকট রয়েছে। প্রতি মাসে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠাই এবং জনবল চেয়ে অনুরোধ করি। আশা করি দ্রুতই প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যাবে।”
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ রোগী, ডেঙ্গু রোগী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। তারা বলছেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে যদি সঠিক সেবা না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়?”
স্থানীয় মানুষ ও রোগী পরিবারগুলো দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, লিফট সচলকরণ, আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।








