প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও ছাত্র সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার ২ জুলাই সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ র্যালি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
বিক্ষোভ ও ছাত্র সমাবেশ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপস্থিত হন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন-‘ মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, কোটার ব্যবহারের ফলে একটা গোষ্ঠী শিক্ষা, চাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছি। এটা একপ্রকার বৈষম্য।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা এবং তার পরিবার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা যেমন, ভাতা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ অন্য আরও সুবিধা ভোগ করে আসছে। এরপরও যদি মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের বিশেষ সুবিধার দরকার হয়, তাহলে সেটা প্রকৃত অর্থেই যারা অনগ্রসর তাদের অধিকার নষ্ট করা ছাড়া কিছু নয়। তাই বলে প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখায় সাধারণ ও প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের করা হচ্ছে বঞ্চিত।
এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, বিসিএসের মতো পরীক্ষায় প্রায় ৫৬ শতাংশ নিয়োগ কোটার ভিত্তিতে হচ্ছে। সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৪৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে দেশের বিপুল সংখ্যক মেধাবীকে হতাশ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ পুরো জাতির এবং দেশের সার্বিক স্বার্থেই কোটা সংস্কারের এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০১৮ সালে হাইকোর্ট যে পরিপত্র প্রদান করেছিল, তা যেন পুনর্বহাল রাখে। তা না-হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হবে এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হবে। তাই ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল না করা হলে সারা বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।








