বর্তমান সরকারের বৈধতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্র প্রক্রিয়াগত না হলে তা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
আজ (২৬ মে) সোমবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর ৩০-তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি বলেন, যারা এই সরকারকে বসিয়েছে, তাদের মধ্যেই আজ ঐক্যের অভাব। তারা কি নির্বাচনের ভয় পায়? কবে আমরা জনপ্রিয় হবো, তারপর নির্বাচন হবে—এভাবে গণতন্ত্র চলে না, চলে না।
তিনি আরও বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের বিকল্প পথেও। দেশের সবকিছু এখন বিচ্ছিন্নভাবে চলছে। একটি সুসংগঠিত, প্রক্রিয়াভিত্তিক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা না হলে রাষ্ট্র ও জনগণের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। গণতন্ত্র মানে হচ্ছে একটি ধারাবাহিকতা, একটি অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। সেখানে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হয়।
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আমির খসরু বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্যন্ত রাজনীতির প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনে সকলের অংশগ্রহণ আছে, অথচ ভাবদৃশ্যে মনে হচ্ছে কয়েকজনের কৃতিত্তে এই গণ-অভ্যুত্থান যা পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিভেদ বিভাজনের সৃষ্টি করছে। ঐক্যমত সৃষ্টির আগে আমাদের এই বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে, শুধুমাত্র নিজের সুবিধা দেখলে ঐক্য হবেনা।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর সেনাবাহিনীর বক্তব্য ভালো লেগেছিলো, আর আজ যদি সেনাবাহিনী গণতন্ত্রের কথা বলে, নির্বাচনের কথা বলে- তাদেরকে স্বাগত জানাই, প্রশ্নবিদ্ধ না করি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হবে, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে।
অগণতান্ত্রিক সরকার যতোদিন থাকবে, ততোদিন গণমাধ্যমের উপর চাপ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।







