রাবি ছাত্রীকে নির্যাতন ও গণধর্ষণের হুমকির ঘটনায় বিচার দাবি

ছাত্ররা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে রাবি ছাত্রীকে নির্যাতন ও গণধর্ষণের ঘটনায় বিচার দাবি করছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও বন্ধুদের দিয়ে গণধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে প্যারিস রোডে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান। এতে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রীকে গালিগালাজ, শারীরিক নির্যাতন ও বন্ধুদের দিয়ে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তিন ছাত্রলীগ নেতা-নেত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন মন্নুজান হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিফা হক শেফা ও আরেক সহ-সভাপতি তাজনোভা থিমী ও সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান আকতার বানুর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
মানববন্ধনে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী তামিম আল নূরের সঞ্চালনায় মিনহাজ, নাহিদ, দিপু, মিঠু নন্দী, শামিম, উৎপল বক্তব্য দেন।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় ব্যাচের মিনহাজ উদ্দিন মামুন বলেন, বিভাগের সিনিয়র কর্তৃক জুনিয়রকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একজন মেয়ে হয়ে কীভাবে আরেকজন জুনিয়র মেয়েকে বন্ধুদের দিয়ে গণধর্ষণের হুমকি দিতে পারে। যাদের মুখ থেকে ধর্ষনের হুমকি আসে তাদের সিনিয়র ভাই-বোন বলতে লজ্জাবোধ করি। ভবিষ্যতে যে জুনিয়ররা আসবে তারা যাতে ভীতসন্ত্রস্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে সেজন্যই আমরা আজ দাড়িয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই যাতে পরবর্তীতে এ ধরণের ঘটনা আর না ঘটে।
একই ইনস্টিটিউটের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামিম হোসেন বলেন, আজকে আমরা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এখানে সমবেত হয়েছি৷ এই দিনটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও লজ্জার। সিনিয়র কর্তৃক জুনিয়রকে শারীরিক নির্যাতনসহ গণধর্ষণের হুমকির দেওয়া হয়েছে। যা অত্যন্ত লজ্জার ও পরিতাপের বিষয়। ভবিষ্যতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যেন এ ধরণের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়, সেজন্য আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হোসেন বলেন, এ ধরণের ঘটনা আমাদের জন্য দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ১ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্ত হওয়ার কোনো আভাস পাচ্ছি না। আমরা যেন এটা ভুলে না যাই। সিনিয়র কর্তৃক র্যাগিংয়ের শিকার যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে। অভিযুক্তরা যাতে আর সাহস না পায়। সেজন্য অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ ধরণের ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয় দাবি করে তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী দিপু চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আমাদের মতিহারের সবুজ চত্বরে৷ এঘটনার বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। এই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা না গেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর ইনস্টিটিউটের জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকবে।
মানববন্ধনে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।






