কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মাইকেল শুমাখারের সাক্ষাৎকার ছাপিয়েছিল জার্মান ম্যাগাজিন ডেই আকটুয়েল্লে। বিষয়টি নিয়ে বেজায় চটেছে সাতবারের ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়নের পরিবার। কিংবদন্তি রেসারের ভক্তরাও করেছেন তীব্র সমালোচনা। এ ঘটনায় ম্যাগাজিনটির সম্পাদক অ্যান হফম্যানকে বরখাস্ত করেছে মালিক পক্ষ ফাঙ্কে মিডিয়া গ্রুপ।
বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, ‘ডেই আকটুয়েল্লে ম্যাগাজিনের শীর্ষ সম্পাদক অ্যান হফম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’
ফাঙ্কে মিডিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিয়াঙ্কা পোহলম্যান বলেছেন, ‘এই স্বাদহীন এবং বিভ্রান্তিকর নিবন্ধটি কখনই প্রকাশ করা উচিত ছিল না। এটি কোনোভাবেই সাংবাদিকতার মানদণ্ডের সাথে মেলে না। যা আমরা এবং আমাদের পাঠকরা কখনো একজন সম্পাদকের কাছে আশা করি না।’
২০০৯ সাল থেকে ম্যাগাজিনটির সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন হফম্যান। আর ২০১৩ সালে ছেলেকে নিয়ে আল্পস পর্বতমালায় স্কিয়িং করার সময় দুর্ঘটনায় পড়েন মাইকেল শুমাখার। দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ভীষণরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কোমায় চলে যান তিনি।
এরপর থেকে নিজ বাড়িতে হাসপাতাল বানিয়ে চিকিৎসা চলছে তার। দুর্ঘটনার ছয় বছর পর কিংবদন্তির জ্ঞান ফেরার খবর আসে। শুমাখারের পরিবার তার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করছে। সেজন্য ফর্মুলা ওয়ান মাস্টারের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়টি পরে অজানাই থেকে গেছে।
এরমধ্যেই ডেই আকটুয়েল্লে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে শুমাখারের সাক্ষাৎকার ছাপায়। ম্যাগাজিনটি কিংবদন্তি রেসারের হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রচ্ছদে ব্যবহার করে শিরোনামে করে- ‘মাইকেল শুমাখারের প্রথম সাক্ষাৎকার!’ শিরোনামের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে- ‘বাস্তবে এটি প্রতারণাই মনে হচ্ছে।’
তারপর সাতবারের ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়নের পরিবার ম্যাগাজিনটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলে। ৫৪ বর্ষী শুমাখার সুইজারল্যান্ডে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং নানা ধরনের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।







