এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই হামলায় অঞ্চলটি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, আর মানবিক সংকট পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় অবিরাম বোমাবর্ষণ করছে। ফলে উপত্যকায় এখন আর কোনো স্থানই নিরাপদ নয়। একইসঙ্গে খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় অঞ্চলজুড়ে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
শুধু সোমবার ভোর থেকে গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে নিহত হয়েছেন ৩০ জন, যাদের মধ্যে ১৪ জন খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন। শহরের সাবরা এলাকায় ড্রোন হামলায় সাংবাদিক ইসলাম আল-কউমিসসহ আরও তিনজন নিহত হন। গাজার পূর্বাঞ্চলে ভারী কামান, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দিয়ে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, ফলে আবাসিক এলাকাগুলো একের পর এক মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন আরও ৫ জন, যাদের মধ্যে ২ জন শিশু। চলমান খাদ্য সংকটে এখন পর্যন্ত দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬৩ জন, এর মধ্যে ১১২ জনই শিশু।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, গাজায় ৫ বছরের নিচের প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক সহায়তার রাস্তাগুলো বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এদিকে, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে হামাস। চুক্তি কার্যকর হলে গাজায় আটক অর্ধেক ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাবে কিছু ফিলিস্তিনিও। তবে ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, এর আগেও বহু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি।







