ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচলের একটি পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, প্রণালীর ‘ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক’ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই চুক্তি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা দেবে না। তার দাবি, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী ‘খুব শিগগির’ খুলে না দিলে ইরানকে ‘কঠোর মূল্য’ দিতে হবে। একই সময়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। যদিও ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, নতুন নৌপথটি অস্থায়ী হবে এবং দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত জানাননি।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৪ ডলারে নেমে আসে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চায় ইরান। অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করছে।







