বছরও পার হয়নি বাবা সিদ্দিকির মৃত্যুর, তার মাঝেই এবার ইমেলে হুমকি পেলেন প্রয়াত এনসিপি নেতা ও বাবা সিদ্দিকের ছেলে জিশান সিদ্দিক। সোমবার (২১ এপ্রিল) জিশান জানিয়েছেন যে, তিনি ‘ডি কোম্পানি’ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। যেখানে তাঁকে বলা হয়েছে ১০ কোটি টাকা না দিলে তারও বাবার মতোই পরিণতি হবে।
‘ডি কোম্পানি’ হল পলাতক ভারতীয় গ্যাংস্টার-সন্ত্রাসবাদী দাউদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন অপরাধ সিন্ডিকেটের জন্য ব্যবহৃত একটি নাম। জিশান সিদ্দিক হিন্দুস্থান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হুমকি খবর নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, দুদিন আগেই ১০ কোটি টাকা চেয়ে তার কাছে একটা হুমকি ইমেইল আসে। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানালে তার বয়ান রেকর্ড করা হয়। জিশান বলেন, ‘আমি তখন ইমেলের বিষয়টি উপেক্ষা করেছিলাম কিন্তু এরপর আবার একই কথা মনে করিয়ে দিয়ে হুমকি ইমেইল পাঠানো হয়, আজও (২২ এপ্রিল) পেয়েছি। অবশেষে, আমাকে পুলিশের কাছে বিষয়টা জানাতেই হয়েছে।’
১৯ এপ্রিল পাওয়া জিশানের ইমেইলের প্রোফাইলের ছবিতে দেখা গেছে দুটি গুলিসহ একটি বন্দুক। ইমেইলের বিষয়বস্তুতে লেখা আছে, ‘বাবা সিদ্দিকের মৃত্যুর পর লরেন্স বিষ্ণোই এর পিছনে আছে বলে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছিল, এটা দুঃখজনক। অন্য কেউ সেটা করেছিল কিন্তু সেটা অতীত। এখন আমি আপনার পরিবারের কাছ থেকে সুরক্ষার জন্য ১০ কোটি টাকা চাই এবং আপনার কাছে দুই দিন সময় আছে।’
ইমেলের প্রেরক হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘দয়া করে পুলিশকে জড়াবেন না। এই ঘটনা আপনার সঙ্গেও ঘটতে পারে, তাই সাবধান থাকুন।’ ইমেলে আরও লেখা হয় যে, ‘যদি কোনো স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হয় তাহলে জানিয়ে দিন। এই বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিন। কোন জায়গায়, কোন সময় টাকা দিতে আসতে হবে আমি জানাব। দয়া করে ইমেইল আপনি সেটা নিশ্চিত করুন, ডি-কোম্পানি।’
গেল বছরের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের নির্মল নগরে এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিককে হত্যা করা হয়েছিল। প্রধান গুলিবর্ষণকারী শিবকুমার গৌতম ছয় রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছিল বলে অভিযোগ। যার তিনটি গুলি সিদ্দিকের দেহের উপরের অংশে লেগেছিল। লীলাবতী হাসপাতালে এক ঘন্টার মধ্যে তিনি মারা যান।
ঘটনার পরপরই অন্য দুই আক্রমণকারী ধর্মরাজ কাশ্যপ এবং গুরমিল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পর ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসও ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ২৭ জন অভিযুক্তই বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছেন। চার্জশিট অনুযায়ী, জেলে থাকা গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই অনমল বিষ্ণোই হত্যাকাণ্ডের প্রধান ষড়যন্ত্রকারী।








