১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১-এর মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের বেশি মৃত্যুর মাত্র ৩৮ ঘণ্টা পর, একই এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইট উড়ার সময় গুরুতর বিপদের মুখে পড়েছিল। এই ঘটনায় ফ্লাইটের দুইজন পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, দিল্লি থেকে ভিয়েনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি (ফ্লাইট নম্বর এএল১৮৭) উড্ডয়নের পর প্রায় ৯০০ ফুট উচ্চতা হারায় এবং একাধিক সতর্ক সংকেত চালু হয়, যার মধ্যে ছিল ‘স্টল অ্যালার্ট’ এবং ‘ডোন্ট সিংক’ গ্রাউন্ড প্রক্সিমিটি ওয়ার্নিং সিস্টেম।
এই ধরনের সতর্কতা ফ্লাইটের লিফট হঠাৎ হারিয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়, যার প্রতিকারে পাইলটদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এটি দিল্লির বজ্রবিদ্যুতসহ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ১৪ জুন রাত ২টা ৫৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। তবে পাইলটরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ভিয়েনা পৌঁছাতে দিতে সক্ষম হন। তবুও, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন।
প্রাথমিকভাবে পাইলটদের দায়েরকৃত রিপোর্টে কেবল টার্বুলেন্সের কারণে স্টিক শেকার সক্রিয় হয় বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার বিশ্লেষণে আরও গুরুতর সতর্ক সংকেতের তথ্য মেলে। একজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৯০০ ফুট উচ্চতা হারানো হয়, তবে পাইলটরা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এবং ফ্লাইট সম্পন্ন করেন।
এই ঘটনার পর দুই পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এয়ার ইন্ডিয়ার সেফটি বিভাগের প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। ইতিমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৮৭ বহরের বিশেষ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য এয়ার ইন্ডিয়া আন্তর্জাতিক ওয়াইড-বডি ফ্লাইট পরিচালনা ১৫ শতাংশ কমিয়েছে।








